স্যোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ (Social media platform banned) ইস্যুতে দগ্ধ নেপাল (Nepal)। ২৬টি অ্যাপের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির বিরোধিতায় বিদ্রোহী হয়ে ওঠা দেশের ছাত্র যুবদের কাছে অবশেষে হার মানতে হল নেপালের ওলি সরকারকে (Nepal Government), খবর সূত্রের। সোমবার সকাল থেকে যে বিক্ষোভের আগুনে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছিল তা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে সমাজ মাধ্যমের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা সরকারের। কার্যত ‘জেন জি’ (Gen Z) কাছে নতিস্বীকার করতে হল ওলি প্রশাসনকে।
সোমবার সকাল থেকেই রাস্তায় নেমে যেভাবে তরুণ প্রজন্ম বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের বিরোধিতায় বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছিল, তাতে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশের পর নেপালেও গণঅভুত্থান হওয়ার একটা আশঙ্কা দানা বাঁধছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের পর থেকেই অস্বস্তি বাড়তে থাকে ওলি সরকারের। সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্তত একুশ জনের মৃত্যু এবং আড়াইশোর বেশি মানুষের আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তড়িঘড়ি মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকা হয়। এরপরই সমাজমাধ্যম থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা করে নেপালের যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বিক্ষোভ তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানান। যদিও এই সংক্রান্ত যে সিদ্ধান্ত আগে নেওয়া হয়েছিল তাতে কোন ভুল ছিল না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। আগামী পনেরো দিনের মধ্যেই হিংসার ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্টও তলব করা হয়েছে।কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তো ছিলই, তবে এবার সার্বভৌমত্বের নামে মানুষের বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা, নিজেদের মতামত চাপিয়ে দেওয়া ‘স্বৈরাচারী ‘ বাম রাজনীতির বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম যেভাবে গর্জে উঠেছে, সংসদ দখলের চেষ্টা করা হয়েছে তাতে ভয় পেয়েছে নেপালের শাসক দল। তাই মাথা নিচু করতে বাধ্য হয়েছে সরকার। জেন জি বিপ্লবের জেরে দেশজুড়ে বিদ্রোহের আগুন ছড়িয়ে পড়তেই কাঠমান্ডু, বীরগঞ্জ, ভৈরহাওয়া, বুটওয়াল, পোখরা, ইটাহারি এবং দামকে কারফিউ জারি হয়। ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, এক্স, লিঙ্কডইন, রেডিট, হোয়াটসঅ্যাপ, স্ন্যাপচ্যাট ইত্যাদি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করার নির্দেশে সরকারের তরফে সাধারণ মানুষের বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছিল নেপাল জুড়ে। এখন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর পরিস্থিতি কোন দিকে করায় সেদিকে নজর থাকবে।

–

–

–

–

–

–
–
–
–
