Friday, June 12, 2026

৩১ কেন্দ্রে হারের ব্যবধান ছাপিয়ে নাম বাদ কয়েক লক্ষ! সুপ্রিম কোর্টে SIR-চক্রান্তের পর্দাফাঁস তৃণমূলের

Date:

Share post:

বাংলার ক্ষমতা দখল করতে কি প্রয়োগ করা হয়েছিল কোনও অদৃশ্য নীল নকশা? কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অভিমন্যুকে যেভাবে সপ্তরথী মিলে অন্যায়ভাবে বধ করেছিল, বাংলার মা-মাটি-মানুষের সরকারের সঙ্গেও কি ঠিক একই আচরণ করা হল? সোমবার সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়াল ঘিরে এমনই এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এল, যা রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ ওলটপালট করে দিতে পারে। তৃণমূলের অভিযোগ, সুপরিকল্পিত ভাবে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা এসআইআর-এর ফাঁদ পেতে অন্তত ৩১টি আসনে তৃণমূলকে জোর করে হারানো হয়েছে।

আদালতে পেশ করা তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বহু হেভিওয়েট কেন্দ্রে জয়ের মার্জিনের চেয়ে নাম বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। তৃণমূলের দাবি, এটি কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং বিজেপি ও ‘দলদাস’ নির্বাচন কমিশনের যৌথ ডার্টি গেম। পরিকল্পনা করে প্রায় ৩৫ লক্ষ মানুষকে ‘বিচারাধীন’ তালিকায় ফেলে তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরেই এসআইআর-এর নামে ৫১ হাজারেরও বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যেখানে হার-জিতের ব্যবধান ছিল মাত্র ১৫ হাজার। অভিযোগ, গণনাকেন্দ্র দখল করে শেষ পাঁচ রাউন্ড গণনা না করেই নিজেদের ইচ্ছেমতো জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় শীর্ষ আদালতে জাঙ্গিপাড়ার উদাহরণ টেনে জানান, সেখানে তৃণমূল প্রার্থী হেরেছেন মাত্র ৮৬২ ভোটে, অথচ পাঁচ হাজারেরও বেশি ভোটারের আবেদন রহস্যজনক ভাবে বিচারাধীন রেখে দেওয়া হয়েছিল। একইভাবে আসানসোল উত্তরে ৫৭ হাজার নাম বাদ গিয়েছে, যেখানে মলয় ঘটকের হারের ব্যবধান ১১ হাজারের কিছু বেশি। দমদম, দমদম উত্তর, টালিগঞ্জ, শ্যামপুকুর বা দিনহাটার মতো প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আসনেই চিত্রটা একই রকম। ব্রাত্য বসু, অরূপ বিশ্বাস থেকে শুরু করে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য— বাদ যাননি কেউই।

তৃণমূলের স্পষ্ট অভিযোগ, বৈধ ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে এবং গণনাকেন্দ্রে মাফিয়ারাজ কায়েম করে এক গভীর চক্রান্তের মাধ্যমে বাংলার সরকারকে উৎখাত করা হয়েছে। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী জানিয়েছেন, এসআইআর-এর কারণে যদি নির্বাচনের ফলাফলে বাস্তবিক প্রভাব পড়ে থাকে, তবে তার জন্য আলাদা করে মামলা দায়ের করতে হবে। ফলে এই আইনি লড়াই যে এখনই শেষ হচ্ছে না, বরং আরও বৃহত্তর মোড় নিতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, শীর্ষ আদালত এই ‘চক্রব্যূহ’ নিয়ে আগামী দিনে কী অবস্থান নেয়।

আরও পড়ুন- বেআইনি নির্মাণকারীর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিপূরণ: তিলজলা ঘুরে জানালেন মন্ত্রী

_

 

_

 

_

 

_

 

_

 

_

Related articles

CID-র সঙ্গে কী আলোচনা কীভাবে সংবাদমাধ্যমে: আদালতে যাওয়ার দাবি অভিষেকের

বারবার তদন্তকারী সংস্থাকে সহযোগিতা করেছেন। পরবর্তীকালেও তার ব্যতিক্রম হবে না। কিন্তু এবার সেই তদন্তকারী সংস্থার দায়বদ্ধতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা...

নবান্নে শুদ্ধিকরণ পর্ব? ফাইলের থেকে গুরুত্ব পাচ্ছে গঙ্গাজল

ক্ষমতার পালাবদলের পর নবান্নে (Nabanna) প্রশাসনিক কাজ, মানুষের সমস্যার সমাধানের বদলে এখন শুরু হয়েছে 'শুদ্ধিকরণ পর্ব'। সরকারি দফতরে...

জাতীয় সড়ক আটকে আন্দোলন নয়: প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

পূর্ব নির্ধারিত সূচি মতো শুক্রবার উত্তরবঙ্গের প্রথম প্রশাসনিক কর্মসূচিতে মালদহে প্রশাসনিক বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর সেই...

দেব, আপনি কোন দিকে? মমতা না মোদি?

লোকসভার বিদ্রোহীদের দিল্লির বৈঠকে হাজির। আবার সংবাদ মাধ্যমের সামনে বলছেন, যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন, আমি তার সঙ্গে আছি।...