আদি-নব্যের দ্বন্দ্বে যখন জর্জরিত গেরুয়া শিবির তখন আদিতেই ভরসা রেখে প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহাকে (Rahul Sinha) রাজ্যসভার প্রার্থী করল বিজেপি। নাম ঘোষণা হতেই বিজেপি-বিরোধীদের কটাক্ষ, জনগণের ভোটে জিতে বিধানসভা বা সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেননি রাহুল, এবার যদি মনোনীত হয়ে যেতে পারেন! তবে অঙ্ক বলছে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবার সংসদীয় রাজনীতিতে যোগ দিতে পারবেন বিজেপির (BJP) প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি।

দলবদলু নেতারাই এখন বঙ্গ বিজেপিতে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন। এতে আদি-নব্যের দ্বন্দ্ব ক্রমশ প্রকট হচ্ছে গেরুয়া শিবিরে। এই পরিস্থিতিতে বিধানসভা নির্বাচনের আগেই প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহাকে (Rahul Sinha) রাজ্যসভায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটা দলবদলু বিজেপি নেতৃত্বকে একটা বার্তা। পাশাপাশি ভোটের আগে আদি বিজেপি কর্মীদের বাড়তি অক্সিজেন যোগানোর কৌশল।

এর আগে বাংলা থেকে শমীক ভট্টাচার্যকে (Shamik Bhattacharya) রাজ্যসভায় পাঠিয়েছে বিজেপি। বাংলাঘ বিজেপির শূন্যের অবস্থা থেকেই লড়াই করেছেন রাহুল সিনহা। দলের রাজ্য সভাপতি হিসেবে তিনি দীর্ঘ সময় দায়িত্ব সামলেছেন। যদিও বিধানসভা (Assembly) বা লোকসভা (Lok Sabha) নির্বাচনে বারবার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে লড়াই করলেও জনগণের রায় যায়নি তাঁর দিকে। এই নিয়ে বিরোধীদের বহু কটাক্ষ সহ্য করতে হয়েছে রাহুল সিনহাকে।

ইতিমধ্যেই তৃণমূল (TMC) তাদের রাজ্যসভার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। রাজ্যের মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী ও টলিউড অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক রয়েছেন তালিকায়। এবার প্রার্থী ঘোষণা করল বিজেপি।

পশ্চিমবঙ্গের ৫ জন রাজ্যসভা সাংসদদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হচ্ছে। তৃণমূলের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সী, সাকেত গোখলে, তৃণমূল থেকে কংগ্রেসে যাওয়া রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়া মৌসম নুর এবং CPIM সাংসদ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। ২ এপ্রিল রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে এঁদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

সংখ্যার নিরিখে তৃণমূলের ২২৩-২২৫ জন বিধায়ক রয়েছে। ফলে ৫টি আসনের মধ্যে ৪টিতে জেতার মতো সংখ্যা রয়েছে জোড়াফুল শিবিরের। সেখানে তারা চারজনই প্রার্থী দিয়েছে। BJP-র রয়েছে ৬৪-৬৫ জন বিধায়ক। ফলে তারা একক ভাবে ১টি আসন নিশ্চিত করতে পারে। বাম-কংগ্রেসের বর্তমানে বিধানসভায় আসন শূন্য। সেই কারণে CPIM-এর বর্তমান আসন, যেটিতে বর্তমানে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য রয়েছেন সেটা তাদের পক্ষে ধরে রাখার সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে চারজন তৃণমূল প্রার্থী ও একজন বিজেপি প্রার্থীর ভোটাভুটি ছাড়াই রাজ্যসভায় যাওয়া প্রায় নিশ্চিত।

–

–

–

–



