উৎসবের মরশুমে সব ধর্ম-বর্ণ-দল-মতের মিলনই বাংলাকে অন্য সব জায়গার থেকে আলাদা করে রেখেছে। এই রাজ্যের রাজনৈতিক সৌজন্যের উদাহরণ সর্বত্র প্রচারিত। সেই সৌজন্যে যে আজও ভাটা পড়েনি ঈদের দিন স্পষ্ট করে দিলেন হুগলির উত্তরপাড়ার তৃণমূল ও সিপিআইএম প্রার্থী। উৎসবের দিন সৌজন্য বিনিময়ে পাশাপাশি সব রাজনৈতিক আক্রমণ সরিয়ে রাখলেন তরুণ প্রজন্মের দুই নেতা। যদি শ্রীরামপুর (Srirampur) সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Bandyopadhyay) এই মঞ্চকেও সিপিআইএম (CPIM) প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রচারের মঞ্চ করতে ছাড়েননি। মীনাক্ষি মুখোপাধ্যায়কে (Minakshi Mukhopadhyay) বহিরাগত কটাক্ষ কল্যাণের।

ঈদের (Eid) সকালে উত্তরপাড়া বিধানসভা এলাকায় সৌজন্য বিনিময় করতে বেরোন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্য়াণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর পুত্র তথা উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী আইনজীবী শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় (Sirsanya Bandyopadhyay)। অন্যদিকে, ঈদের সকালে জনসংযোগে বেরিয়েছিলেন সিপিআইএম প্রার্থী মীনাক্ষি মুখোপাধ্যায়। কোন্নগর ধারসা এলাকায় একটি ইদগাহের কাছে মীনাক্ষি ও শীর্ষাণ্য মুখোমুখি হন। দুজনেই সৌজন্য বিনিময় করেন।

উৎসবের আবহে কীভাবে সৌজন্য বজায় রাখতে হয়, তার ছবি স্পষ্ট করে শীর্ষাণ্য জানান, আজকে ঈদের (Eid) দিন তাই আজকে প্রচার নয় সবাইকে ঈদ মোবারক করতে এসেছিলাম। সিপিআইএম (CPIM) প্রার্থীর সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় হল। আমি ওনাকে বললাম ভালো থাকবেন। এটা ব্যক্তি বিশেষের লড়াই নয়, এটা লড়াইটা মতাদর্শের।

আরও পড়ুন : রেড রোড থেকে লাল মসজিদ, বৃষ্টি মাথায় ইদের সকালে মানুষের পাশে মমতা-অভিষেক

যদিও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই নির্বাচনের বাজারে সিপিআইএম প্রার্থীর জনসংযোগ নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। তিনি মীনাক্ষি মুখোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে দাবি করেন, বিজেপির কিছু নেই, সিপিআইএমের তো কিছুই নেই।৩৪ বছর ধরে সিপিআইএম যা করেছে আর মুখ দেখানোর জায়গা নেই। আর সব পরিযায়ী প্রার্থী। একবার এখানে দাঁড়াচ্ছে, একবার ওখানে দাঁড়াচ্ছে। হারছে। এবারে আবার সিপিআইএম প্রার্থীকে অনুরোধ করছি পরের বারের জন্য জায়গাটা ঠিক করে রাখুন।

উৎসবের দিনে অবশ্য এই রাজনৈতিক মন্তব্যের কোনও উত্তর দিতে চাননি মীনাক্ষি। রাজনৈতিক সৌজন্য বজায় রেখেই তিনি হেসে উত্তর দেন, আজ সবাই খুশির ঈদে আছেন।সব ধর্মের সব অংশের মানুষ।একসঙ্গে আছেন আজকে সবাই জিতুক।

–

–

–

–
–
–

