ভোটার লিস্টে (Voter List) কারচুপির পরে ইভিএম-এ গোলমাল করতে পারে গেরুয়া শিবির। বৃহস্পতিবার, দুবরাজপুরে দলীয় প্রার্থীর হয়ে প্রচার সভা থেকে সতর্ক করলেন তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) ওয়েবসাইটে ব্যাপক বিভ্রাট, যার ফলে রাজ্যজুড়েই দিশেহারা সাধারণ মানুষ। রাজ্যের অধিকাংশ ভোটার চলে গিয়েছে অ্যাডজুডিকেশন লিস্টে। তৃণমূল সভানেত্রীর কথায়, ”এই নির্বাচনটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার নির্বাচন। তাই নিজের ভোট নিজে দিয়ে বিজেপিকে বেলাইন করতে হবে। এটাই আপনাদের কাছে আহ্বান”।

দুবরাজপুরের খয়রাশোলের গোষ্ঠ ডাঙ্গালের জনসভায় সুর চড়ান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাফ জানান, ”গণনার দিন ইভিএম মেশিন খুব ভাল করে দেখে নিতে হবে। ওরা কিন্তু অনেক রাত পর্যন্ত গণনা টেনে নিয়ে যাবে”। অসমের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ”গায়ের জোরে অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন সেখানে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এই রাজ্যেও এমনটা হতে পারে। যদি ভয় দেখায়, ভয় পাবেন না। এরা আইন মানে না, বেলাইনের পথিক। তাই প্রত্যেক প্রার্থীকে সঙ্গে করে আইনজীবী নিয়ে যেতে বলব, যাতে কোনও রকম বজ্জাতি করতে না পারে।” আরও পড়ুন: পদ্মায় বাস দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৪! চলছে উদ্ধারকাজ

তালিকা প্রকাশ নিয়ে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ”বাংলায় কোনওরকম ঘটনা, দুর্ঘটনা, অপ্রীতিকর কিছু ঘটলে দায়ী থাকবে বিজেপি। নির্বাচন কমিশনকে দায়ী থাকতে হবে। কারণ ওরা সব বদল করেছে অফিসারদের। এখন আমার হাতে ক্ষমতা নেই। ওদের হাতে ক্ষমতা। তাই ওদেরকেই সব দেখতে হবে। যদি মানুষের উপর কোনও আক্রমণ নেমে আসে তাহলে আমি কিন্তু ছাড়ব না। ভয় পাবেন না। সতর্ক থাকবেন ওদের বজ্জাতি থেকে। হাঁদা-ভোদা দুই ভাই, চক্রান্ত করে তাই। যতই করো হামলা, তৃণমূল জিতবে বাংলা। নির্বাচনের পরে পিঠে পোস্টার লাগিয়ে বলতে হবে আমি বিজেপি করি না।”

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”যতই করো হামলা, আবার তৃণমূলই জিতবে বাংলা। বাংলায় তোমাদের কোনও জায়গা নেই। এখনও কেন সব জায়গায় লিস্ট টাঙানো হল না? উত্তর দিন। যদি বিচারাধীন ৪০ শতাংশের নামও ওঠে তালিকায়, সেটা আমাদের ক্রেডিট। সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছি। দিনের পর দিন রাস্তায় পড়ে থেকেছি। এখনও কেন তালিকা টাঙাতে পারল না? সংবাদমাধ্যমকে কেন দিতে পারছে না? ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ দেবে বলেছে। বুথে বুথে এখনও তালিকা টাঙাতে পারল না? কেন কোনও পার্টিকেও তালিকা দেওয়া গেল না? পর্দা কে পিছে কেয়া হ্যায়। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ওয়াশিং মেশিনে ঢুকিয়ে দিচ্ছে বিজেপি। সৎ সাহস যদি থাকে বিজেপি পার্টির, লিস্ট ঝোলাও। আমাদের না দাও, সাংবাদিকদের দাও। কোনও সাংবাদিককে ঢুকতে দিচ্ছে না শুনেছি। আমাদের তো অ্যাপিল করতে হবে। ২৯-৩০ লাখও যদি হয়, যাদের নাম উঠেছে, তার কৃতিত্ব আমাদের। আমি চাই ১০০ শতাংশ নাম উঠুক। এরা প্রকৃত ভোটার। আমাদের শিবির থাকবে বুথে বুথে। কী ভাবে দরখাস্ত করতে হয় জানবেন। আপনাকে আইনজীবী নিয়োগ করতে হবে না। বিএলএ-রা যেমন কাজ করেছেন, এরা কাজ করবে বিএলএ-২। চালন সূঁচের দোষ ধরে। বাইরে থেকে বিজেপি নেতা-নেত্রীরা আসেন। সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী। আরও লোক এলে আপনার গ্যাসের থেকে ভাগ দিতে হবে। ডাক্তারদেরও বলছে নেবে। দেখছে কে কে আরএসএসের সদস্য। বিজেপি উকুন বাছাই করছে। দেখছে কে প্রিয় পাত্র। কেউ নয়, সকলে আমার লোক। তৃণমূল ছাড়া কোনও দল নেই, যারা বাংলায় ক্ষমতায় আসতে পারে। যতই চক্রান্ত করো, সব ব্যর্থ হবে।”

–

–

–

–

–

–
