নির্বাচন কমিশনের স্বৈরাচারী পদক্ষেপে স্থগিতাদেশ কলকাতা হাই কোর্টের। নির্বাচনে অশান্তি হতে পারে, এমন আশঙ্কা করে রাজ্য জুড়ে ৮০০ নেতা কর্মীকে ‘ট্রাবলমেকার’ (troublemaker) তকমা দিয়ে গ্রেফতারির যে নির্দেশ নির্বাচন কমিশন (ECI) জারি করেছিল, তা যে আদতে আইন বিরুদ্ধে, প্রমাণিত হয়ে গেল আদালতে। তৃণমূল সাংসদ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Bandyopadhyay) দায়ের করা মামলায় কলকাতা হাই কোর্ট এই ধরনের গ্রেফতারির নির্দেশ (arrest warrant) নিয়েই প্রশ্ন তোলে।

বুধবার কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) শুনানিতে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তুলে ধরেন, সংবিধানের ২১ নম্বর ধারাকে লঙ্ঘন করে গ্রেফতারি পরোয়ানা বের করা একজন নাগরিকের ব্যক্তি স্বাধীনতার বিরোধী। প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচন কমিশন কি এত ক্ষমতাবান যে ব্যক্তিস্বাধীনতার মৌলিক অধিকারকে (fundamental right) হরণ করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করতে পারে? সেই সঙ্গে উল্লেখ করেন, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ ছাড়াই কীভাবে কমিশন তাঁকে গ্রেফতার করে? এভাবে তাঁদের ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ করা হয়।
এর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ার মনে করিয়ে আদালতে তিনি সওয়াল করেন, কোনও ব্যক্তিকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়ার এক্তিয়ার কমিশনের নেই। ম্যাজিস্ট্রেটের রয়েছে। একমাত্র এই রাজ্যের এভাবে সতর্কতামূলক আটক করা হচ্ছে। নিরাপত্তার প্রয়োজন হলে পর্যাপ্ত সিআরপিএফ, সিআইএসএফ নিয়োগ করতে পারে তাঁরা। কিন্তু এভাবে নির্বাচনের আগে তাঁদের গ্রেফতার করে তাঁদের ভোট দিতেই আটকাচ্ছে কমিশন। কিসের চেষ্টা করছে কমিশন? এভাবেই কি এই দেশে গণতন্ত্র রক্ষিত হবে?

তৃণমূলের দায়ের করা মামলায় রাজ্য সরকারের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত সমর্থন জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বিষয়টি নিরাপত্তাজনিত সতর্কতামূলক পদক্ষেপের। সেখানে যে ‘ট্রাবলমেকার’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে তা কোনও দণ্ডবিধিতে উল্লেখ নেই। সবপক্ষের শুনানিতে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রেফতারিতে স্থগিতাদেশের আবেদন করেন। তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ গ্রেফতারিতে স্থগিতাদেশ দেন। আগামী জুন মাস পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ (stay order) কার্যকর থাকবে।

আরও পড়ুন : পর্যবেক্ষক দিচ্ছেন গ্রেফতারির নির্দেশ! ভিনরাজ্যের অভিযুক্ত আধিকারিকদের আদালত পর্যন্ত আনার হুঁশিয়ারি তৃণমূলের

রায়ের পরে তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বিচার ব্যবস্থার উপর আমাদের সবসময়ই আস্থা ছিল। কমিশনের (ECI) গ্রেফতারিতে (arrest warrant) স্থগিতাদেশ দিয়েছে (stay order) কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। রায়কে স্বাগত। বুধবার হাই কোর্টের রায়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কোনও আইন ভাঙলে তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেবে।

–

–
–
–
