পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত হওয়া নিয়ে অনির্দিষ্টকালের অনিশ্চয়তা। সেই পরিস্থিতিতে দেশে যে জ্বালানি সংকট তা স্বীকার করে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের স্বার্থে জ্বালানি সাশ্রয় থেকে বিদেশযাত্রার উপর প্রায় আট ধরনের লাগাম টানার পরামর্শ দিয়েছেন। তাতেই সরব বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলিতে যখন নির্বাচন প্রক্রিয়া চলছিল, তখন এই বিষয়ে আলোকপাত না করে নির্বাচন শেষ হতেই প্রধানমন্ত্রীর (Prime Minister) এই ঘোষণায় আদতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরির দাবি বিরোধীদের। প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের বার্তায় কেন্দ্রের সরকারের ব্যর্থতাকে তোপ বিরোধী নেতাদের (opposition leaders)।
দেশবাসীকে নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) আবেদনের পরে কার্যত মোদি নিজের ব্যর্থতা ঢাকছেন বলে দাবি লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর (LoP Rahul Gandhi)। তিনি জানান, এখন সোনা কেনা, বিদেশে যাওয়া বা ওয়ার্ক ফ্রম হোম, গণপরিবহন ব্যবহারের আবেদন করে মোদি দেশের মানুষের বলিদান চাইছেন। আদতে এটা কোনও উপদেশ নয়, এটা তাঁর ব্যর্থতার প্রমাণ। গত ১২ বছরে তিনি দেশের মানুষকে এমন জায়গায় নিয়ে গিয়েছেন, যেখানে তিনিই বলে দেবেন মানুষ কি কিনবে, কি কিনবে না। কোথায় যাবে, কোথায় যাবে না। প্রতিবার নিজেদের দায়িত্ব মানুষের ঘাড়ে ঠেলে তাঁরা পালানোর চেষ্টা করেন। এই আপস করে চলা প্রধানমন্ত্রী (Prime Minister) আর দেশ চালাতে পারছেন না।

সমাজবাদী পার্টির (Samajwadi Party) প্রধান অখিলেশ যাদব (Akhilesh Yadav) দাবি করেন, যদি তারা সরকার চালাতে না পারে, বিজেপির উচিত সেটা স্বীকার করে নেওয়া। এই ধরনের আবেদন মানুষের মধ্যে আতঙ্ক, অস্বস্তি, ব্যবসা-বাণিজ্যে অস্থিরতা, বাজারে বিরূপ প্রভাব ফেলে, যেখানে মুদ্রাস্ফীতি বা ছাঁটাইয়ের মতো আশঙ্কা তৈরি হয়। সরকারের দায়িত্ব বিপুল পরিমাণ রসদকে বিপদকালীন পরিস্থিতিতে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ব্যবহার করা, আতঙ্ক বা অশান্তি তৈরির চেষ্টা করা নয়। সেই সঙ্গে অখিলেশের প্রশ্ন, এই কথাগুলো নির্বাচন শেষ হওয়ার পরই কেন মনে পড়ল?

আরও পড়ুন : জ্বালানি সংকট: মানলেন মোদি, দেশাত্মবোধের নামে লকডাউন পরিস্থিতি ফেরানোর বার্তা!

মোদির এই বার্তায় চরম আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আপ (AAP) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal)। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এটাই কি দেশের অর্থনৈতিক দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস? সত্যিই কী আমাদের দেশ বিরাট অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে? এর আগে তো এই দেশে এমন হয়নি। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেশের মানুষের সামনে পেশ করুন। বাস্তবে দেশের অর্থনীতি কোথায় দাঁড়িয়ে, জানান।

–

–

–
–
–
