২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা বা DA অন্যতম বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছিল। ক্ষমতায় আসার পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দিয়েছিলেন, পরবর্তী বৈঠকেই বকেয়া ডিএ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেই প্রত্যাশা নিয়েই সোমবার বিজেপি সরকারের দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের দিকে তাকিয়ে ছিলেন সরকারি কর্মচারীরা। কিন্তু বৈঠকের পর ডিএ নিয়ে কোনও ঘোষণা না হওয়ায় হতাশা ছড়িয়েছে কর্মচারী মহলে।
সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠকে একাধিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হলেও মহার্ঘ ভাতা নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। ফলে সরকারি কর্মচারীদের একাংশের অভিযোগ, ডিএ ইস্যুতে এখনও অনিশ্চয়তা ও টালবাহানা চলছে। তাঁদের দাবি, সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই বকেয়া মহার্ঘ ভাতা প্রদানের পক্ষে রায় দিয়েছে। তা সত্ত্বেও কবে এবং কীভাবে সেই বকেয়া মেটানো হবে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি সরকার। আরও পড়ুন: রাজস্থানে ভয় দেখিয়ে বছরের পর বছর গণধর্ষণ, বিজেপিশাসিত রাজ্যে বিচার না পেয়ে আত্মঘাতী ২ বোন!

শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, “কথা দেওয়া হয়েছিল দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ডিএ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। ৪৫ দিনের মধ্যে নতুন পে কমিশন কার্যকর করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজকের বিবৃতিতে ডিএ নিয়ে নিশ্চিত কিছু পাওয়া গেল না। এতে আমরা অত্যন্ত হতাশ।” তবে তিনি আশাপ্রকাশ করেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সরকার এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবে। একই সঙ্গে তাঁর মন্তব্য, “ নতুন সরকার যেন শিক্ষক-কর্মচারী সমাজকে প্রতারিত না করে, সেই প্রত্যাশাই করছি।” অন্যদিকে, মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক অনিমেষ হালদারও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের প্রাপ্য দেওয়ার বিষয়ে টালবাহানা শুরু হয়েছে। আমরা হতাশ। ডিএ নিয়ে নির্দিষ্ট রূপরেখা ঘোষণা না হওয়ায় কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা মুখপাত্র-বিধায়ক কুণাল ঘোষ এ-প্রসঙ্গে বলেন, যাঁরা বলেছিলেন ডিএ কর্মীদের অধিকার, তাহলে তাঁরা কেন ডিএ ঘোষণা করছে না! ভোটের আগে ফলাও করে ডিএ নিয়ে রাজনীতি করেছে বিজেপি। আমাদের সরকার যথাসাধ্য ডিএ দিয়েছে, বকেয়া মিটিয়েছে। কেন্দ্র শুধু বঞ্চনা করে গিয়েছে। বাংলাকে বঞ্চনা না করলে পুরোটা না হলেও আরও বকেয়া দিতে পারতাম।

–

–

–

–
–
–
–
