এবার দেশে ১০০ শতাংশ ইথানলে (E100) গাড়ি চালানোর সবুজ সংকেত দিয়েছে কেন্দ্রীয় পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি (Nitin Gadkari)। সেন্ট্রাল মোটর ভেহিকেলস রুলস, ১৯৮৯-এর খসড়া সংশোধনীতে সই করে ইথানল রেগুলেশনে সিলমোহর দিয়েছেন দেশের পরিবহন মন্ত্রী। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেল ভারতে এসে না পৌঁছানোর ফলে দেশে যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, সেই মূল্যবৃদ্ধির সময়ে কেন্দ্রের এই ঘোষণায় প্রাথমিকভাবে সাধারণ মানুষের খুশি হওয়ারই কথা। কিন্তু এই ঘোষণার পরে দেশের হাজার হাজার গাড়ি অকেজো হয়ে পড়ার আশঙ্কায় আম আদমি।

কিন্তু বাস্তবটা কী? এতদিন পেট্রোল বা ডিজেল চালিত গাড়িতে যে ইঞ্জিন ব্যবহার হত তাতে ২০ শতাংশ ইথানল ব্যবহার করা যেত। তার বেশি ইথানল তেলে মেশালে গাড়ির ইঞ্জিন খারাপ হয়ে যেত। বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট জানাচ্ছেন, সাধারণ পেট্রোল ইঞ্জিনে ইথানলের মাত্রা ২০ শতাংশের বেশি বাড়ালেই ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ ক্ষয়ে যাবে এবং ইঞ্জিন একেবারে খারাপ হয়ে যাবে। সরকার ধুমধাম করে ১০০% ইথানল-উপযোগী (Flex-Fuel) মারুতি সুজুকি ওয়াগন-আর (WagonR) কিংবা হিরো মোটোকর্পের স্প্লেন্ডর প্লাসের মতো মডেল বাজারে আনার কথা বলছে ঠিকই, কিন্তু ভারতের রাস্তায় বর্তমানে যে কোটি কোটি গাড়ি চলছে সেগুলোর কী হবে? আরও পড়ুন: দেশটা গণতান্ত্রিক না একনায়কতান্ত্রিক, স্পষ্ট করুন: ককরোচদের মঞ্চে দাবি সোনমের

এবার যদি পুরোপুরি ইথানলে গাড়ি চালাতে হয়, তবে বর্তমান গাড়িগুলোর ইঞ্জিন পুরোপুরি বদলে ‘ফ্লেক্স-ফুয়েল’ ইঞ্জিনে রূপান্তর করতে হবে। এই ইঞ্জিন মডিফিকেশনের খরচ সাধারণ মধ্যবিত্ত গাড়ি মালিকদের পকেট কাটার জন্য যথেষ্ট। ফলে, যারা ভাবছেন কাল থেকেই বর্তমান গাড়িতে ইথানল ভরে পেট্রোলের খরচ বাঁচাবেন, তাঁদের জন্য এই সিদ্ধান্ত কতটা কাজে আসবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে।

এছাড়াও সাধারণ মানুষ যে ভাবছে এবার পেট্রোল-ডিজেলের আকাশছোঁয়া দাম থেকে মুক্তি মিলবে। পরিসংখ্যান কিন্তু উল্টো কথা বলছে। ভারতে ইথানল মূলত আখ বা শস্যদানা থেকে তৈরি হয়। বর্তমান বাজার ও উৎপাদন পরিকাঠামো অনুযায়ী, ১০ শতাংশ খাঁটি ইথানল (E100) তৈরির খরচ ও তার বাস্তব বাজারমূল্য পেট্রোল-ডিজেলের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়, বরং কখনও কখনও তা অনেক বেশি। বর্তমানে E20 জ্বালানির ওপর মাত্র ৫ শতাংশ জিএসটি থাকলেও, ২০ শতাংশের বেশি ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির ওপর জিএসটি-র হার একলাফে ১৮ শতাংশ হয়ে যায়। যদিও নীতিন গড়কড়ি এই কর কমানোর জন্য অর্থমন্ত্রীর কাছে জানিয়েছেন, তবুও রাজ্য ও কেন্দ্রের করের জালে ইথানলের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরেই যাওয়ার আশঙ্কাী বেশি। ফলত, জ্বালানির আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধির বাজারে এই দেশীয় বিকল্প সাধারণ মানুষের খরচের বোঝা কতটা কমাতে পারবে তাতেও উঠছে প্রশ্ন।

–

–

–

–
–
–
