আরও আইনি প্যাঁচে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhisek Banerjee PA) আপ্তসহায়ক সুমিত রায়(Sumit Ray)। জমি জালিয়াতি আর মাটি চুরির মামলার পর, এবার সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা প্রতারণার নতুন অভিযোগ! পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা থানার এক মামলায় সুমিতের নাম নতুন করে জুড়ল পুলিশ। এমনিতেই সুমিতের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রয়েছে, জারি হয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও সিআইডি-র লুকআউট নোটিশ। এর মধ্যেই এই নতুন মামলা তাঁর ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিল।

গত ১৬ জুন ডেবরা থানায় মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে একটি জালিয়াতির অভিযোগ করেন ডেবরার ত্রিলোচনপুরের বাসিন্দা প্রসেনজিৎ রায়। প্রসেনজিৎ নিজেকে তৃণমূলের প্রাক্তন কর্মী বলে দাবি করেছেন। এই মামলার তদন্ত করতে গিয়েই পুলিশ সুমিতের নাম সামনে এসেছে। দায়ের হয়েছে এফআইআর। প্রসেনজিতের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা তাঁকে বলেন যে ১২টি সরকারি চাকরি আছে, কিন্তু তার জন্য ১২ লক্ষ টাকা দিতে হবে। প্রসেনজিৎ ধারদেনা করে টাকার জোগাড় করেন। এরপর ডেবরার একটি হোটেলে সুজয় হাজরা তাঁর সঙ্গে হাওড়ার নলপুরের বাসিন্দা আশিক নামে এক ব্যক্তির পরিচয় করিয়ে দেন। আশিক নিজেকে নবান্নের কর্মী বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। আরও পড়ুন: পার্টির টাকায় জিতেই বেইমানি! ঋতব্রত-সন্দীপনের নির্বাচনী খরচ ফাঁস কুণালের

অভিযোগপত্রে লিখেছেন, সুজয় নিজের কাছে ২ লক্ষ টাকা রেখে বাকি ১০ লক্ষ টাকা আশিককে দিয়ে দেন। বলা হয়, নিয়োগপত্র হাতে পেলে আরও ৩০ লক্ষ টাকা দিতে হবে। আশিক চাকরিপ্রার্থীদের কলকাতায় নিয়ে এসে বিকাশ ভবন ও খাদ্য ভবন ঘুরিয়ে দেখান, এমনকি তাঁদের মেডিক্যাল টেস্টও করানো হয়। কিন্তু চাকরি হয়নি। এরপর প্রসেনজিৎরা আশিককে চাপ দিতে থাকেন। প্রসেনজিতের দাবি, তখন আশিক তাঁদের বলেন, “অভিষেকদার পিএ সুমিত রায়কে টাকা দিতে হবে, না হলে চাকরি হবে না।” টাকাও গেল, চাকরিও হল না—শেষমেশ প্রতারিত হয়েছেন বুঝে পুলিশের দ্বারস্থ হন প্রসেনজিৎ। আর সেই সুতো ধরেই এবার টান পড়ল সুমিত রায়ের ওপর।

–

–

–

–

–
–
–
