মৃত্যুর ‘মাত্র’ ১২৯ বছর পরে নিমতলায় ঠাঁই পেলেন বিদ্যাসাগর

মৃত্যুর ‘মাত্র’ ১২৯ বছর পরে নিমতলার ফলকে ঠাঁই পাওয়ার সুযোগ পেলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর৷ রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিফলকের উল্টো দিকে এবার বিদ্যাসাগরের স্মৃতিফলক বসতে চলেছে৷

বিদ্যাসাগরের মরদেহের সৎকার হয়েছিল কলকাতার নিমতলা ঘাটে। কিন্তু মৃত্যুর ১২৯ বছর পরেও সেই সমাধিস্থলে তাঁর কোনও স্মৃতিফলক বসেনি৷ শেষপর্যন্ত ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন বা ভারতসভার উদ্যোগে
তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীর ঠিক পরের দিন, ৩০ জুলাই নিমতলা শ্মশানঘাটে উদ্বোধন হবে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের স্মৃতিফলক। নিমতলায় এই স্মৃতিফলক বসছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিসৌধের ঠিক উল্টো দিকে। কলকাতা পুরসভার সহযোগিতায় বিদ্যাসাগরের ওই স্মৃতিফলক এবার বসতে চলেছে৷ মাঝে কেটে গিয়েছে এতগুলি বছর৷
বিদ্যাসাগরের জীবন ও কর্ম মূলত কলকাতাকে কেন্দ্র করেই৷ ঢাকঢোল পিটিয়ে বিদ্যাসাগরের ২০০তম জন্মবার্ষিকী পালন হয়েছে শহরে। তাঁর মূর্তি ভাঙ্গা নিয়েও শোরগোল কম হয়নি৷
কিন্তু নিমতলায় তাঁর একটা স্মৃতিফলক বসানোর কথা কারও মনে হয়নি। এই উদ্যোগ যারা নিয়েছে, সেই ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি সুস্বাগত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘‘১৮৭৬ সালে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে তৈরি হয় এই অ্যাসোসিয়েশন। এর সদস্য ছিলেন স্বয়ং বিদ্যাসাগরও। আমরা দীর্ঘদিন ধরেই নিমতলা ঘাটে বিদ্যাসাগরের স্মৃতিফলক বসাতে উদ্যোগী হয়েছিলাম। কিন্তু পুরসভার তরফে সাড়া পাচ্ছিলাম না৷ শেষ পর্যন্ত কলকাতা পুরসভা সেখানে জায়গা করে দেওয়ায় আমরা পুর কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’’
বিদ্যাসাগরের মৃত্যু হয় ১৮৯১ সালের ২৯ জুলাই, রাত ২টো ১৮ মিনিটে। রাত ১২টা পেরিয়ে যাওয়ায় তারিখটা ৩০ জুলাই হওয়া উচিত। কিন্তু তাঁর মৃত্যুদিন ২৯ জুলাই হিসেবেই ধরা হয়। সুস্বাগতবাবু বলেছেন, “২৯ জুলাই স্মৃতিফলকটি উদ্বোধন করতাম। কিন্তু ওই দিন সার্বিক লকডাউন ঘোষণা হওয়ায় ৩০ জুলাই উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’’

রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিফলকের উল্টো দিকে নিমতলা শ্মশানে উদ্বোধনের অপেক্ষায় বিদ্যাসাগরের এই স্মৃতিফলক