মুখ পুড়ল বিজেপির: অভিষেকের দুবাই সফরে কোনও বেনিয়ম নেই, বলছে দূতাবাস

প্রথমে সর্বশক্তি দিয়ে দুবাই সফর আটকানোর চেষ্টা। শেষে আদালতে মুখ পুড়িয়ে অভিষেকের দুবাই সফরে নজরদারি। তবে তাতেও মুখ পুড়তে বাকি রইল না। সম্প্রতি দুবাই(Dubai) থেকে ভারতীয় দূতাবাস(Indian Embassy) জানিয়ে দিল, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) কোনও গতিবিধি নিয়মের বাইরে নয়। যেখানে তাঁর যাওয়ার কথা সেখানেই গিয়েছেন। যেখানে থাকার কথা সেখানেই থেকেছেন। চিকিৎসার জন্য তিনবার গিয়েছেন চোখের ডাক্তারের(Doctor) কাছে। এবিষয়ে ইডির কাছেও যে তথ্য এসেছে সেখানেও দেখা যাচ্ছে কোনও বেনিয়ম হয়নি অভিষেকের সফরে। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই বিরোধীদের তোপের মুখে বিজেপি। তৃণমূলের অভিযোগ, রাজনৈতিক ভাবে লড়াই করতে না পেরে অভিষেকের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে সেটা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল।

উল্লেখ্য, চোখের চিকিৎসার জন্য অভিষেকের দুবাই সফরের বিরোধিতায় শুরু থেকেই বাধা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। এরপর বাধ্য হয়ে তৃণমূল সাংসদকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়। কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর এই সফরে সম্মতি দেয়। আদালতের নির্দেশ ব্যাকফুটে চলে যাওয়া ইডি এরপর দুবাইতে অভিষেকের উপর বেআইনিভাবে নজরদারির পথে হাঁটে। ইডির তরফে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সরকারকেও অভিষেকের উপর চর নিয়োগ করার অনুরোধ করা হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিজেপি সরকারকে টুইটে তুলোধনা করেন অভিষেক।

মোদি সরকারকে তোপ দেগে অভিষেক লেখেন, “নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো মানুষের ৩০ হাজার কোটি টাকা লুট করা নীরব মোদি এবং মালিয়াদের উপর একই রকম উদ্যম ও নিষ্ঠা সহকারে যদি নজর রাখত, তবে মানুষের এই বিপুল পরিমান টাকা রক্ষা পেত। আমার উপর নজর রাখতে গিয়ে তারা ভুলে যাচ্ছে, গোটা ভারতই এখন তাদের দিকে নজর রাখছে।” এই ঘটনায় সরব হয়েছিলেন বাংলা পক্ষের নেতা গর্গ চট্টোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট দুবাইয়ে বাংলার সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর নজরদারি করছে। এই বিষয়ে তারা সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সরকারকেও চর নিয়োগ করার অনুরোধ করেছে। বাংলার একজন সাংসদের উপর নজর রাখার অর্থ দেশের সার্বভৌমত্বের আত্মসমর্পণ।’

যদিও চর নিয়োগ করে অভিষেকের উপর নজরদারি চালাতে কোনও কার্পণ্য করেনি বিজেপি সরকার। তবে দূতাবাসের পাশাপাশি ইডির কাছে যে রিপোর্ট এল তাতে দেখা যাচ্ছে, ৩ তারিখ দুবাই গিয়েছেন অভিষেক। আগে থেকেই ডাক্তারের কাছে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল তাঁর। সেইমতো তিনি চিকিৎসার জন্য খুব সুনির্দিষ্ট জায়গায় গিয়েছেন। এবং যেখানে থাকার কথা ছিল সেখানেই থেকেছেন। তাঁর দুবাই সফরে কোনওরকম বেনিয়ম ঘটেনি। ফলস্বরূপ এই রিপোর্টে মুখ পুড়ল বিজেপির।


Previous article“পর্যাপ্ত পড়াশুনো করলে ভালো রেজাল্ট আসবে”,মনে করেন উচ্চ মাধ্যমিকে তৃতীয় স্থানাধিকারী অভীক