বিহারে এনডিএ টেনেটুনে জিতলেও বিগ ব্রাদার এবার বিজেপি। আসনপ্রাপ্তির নিরিখে রাজ্যে তৃতীয় স্থানে জেডিইউ। ভোটের আগে নীতিশকে এনডিএর মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করলেও গোটা ভোটপর্বে আরেক এনডিএ শরিক চিরাগ পাসোয়ানের এলজেপিকে ব্যবহার করে বিজেপি যেভাবে নীতিশকে বেইজ্জত করে জেডিইউকে দমানোর চেষ্টা করে গিয়েছে তারপর শাসক জোটে শরিকি আস্থার সম্পর্ক তলানিতে। বিহারে বিজেপির বিগ ব্রাদার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু নীতিশের দলকে ‘ছোট’ করতে গিয়ে এনডিএর আয়তনই সংকুচিত হয়ে গিয়েছে। বিজেপির গোপন মদতে চিরাগের কট্টর নীতিশ বিরোধিতায় কমবেশি অন্তত ২৫ টি আসনে জেডিইউর ভোট কেটেছে এলজেপি। এর ফলে জিতে গিয়েছে মহাজোটের আরজেডি প্রার্থীরা। জেডিইউকে ‘কাট টু সাইজ’ করতে গিয়ে এই বিপজ্জনক কৌশল শেষ বিচারে সার্বিকভাবে ক্ষতি করেছে এনডিএর। শাসক জোটের আসন সংখ্যা কমেছে। বিহারে বিজেপি বিগ ব্রাদার হওয়ার হয়ে উঠলেও নীতিশের দল দুর্বল হওয়ায় স্থায়ী মজবুত সরকার গড়ার পথে এখন তাই কাঁটা বিস্তর। আর চিরাগ পাসোয়ান বাবার মৃত্যুর পর নিজের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্বের লোভে বিজেপির পুতুল হতে গিয়ে যে কাণ্ড করলেন তাতে কিং মেকার নয়, স্রেফ ভোট কাটুয়া হিসাবেই পরিচিত হবেন। কারণ এই খেলায় তাঁর দলের ক্ষতিটাই সবচেয়ে বেশি হয়েছে। একগাদা আসনে প্রার্থী দিয়ে নীতিশের ক্ষতি করা বাদে তাঁর দলের প্রাপ্তি শূন্য!


ভোটের আগে নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহরা বলেছিলেন, বিহারে এনডিএর যে শরিক যে সংখ্যক আসনই পাক, মুখ্যমন্ত্রী হবেন নীতিশ কুমার। কিন্তু তখন পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। জেডিইউ বিহারে বিজেপির চেয়ে বড় দল ছিল। আর এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। বিজেপির চেয়ে বহু আসন কম পাওয়া সত্ত্বেও পূর্ব প্রতিশ্রুতি রক্ষায় যদি বা মোদি-শাহরা নীতিশকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসান, তারপর তাঁকে কি আর স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেবেন? বিগ ব্রাদার বিজেপির সম্মতি ছাড়া নীতিশ কি রাজ্যের স্বার্থে কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন? নাকি এখন মুখ্যমন্ত্রী করলেও পরে পদে পদে উত্যক্ত করে নীতিশকে মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়তে বাধ্য করাই বিজেপির উদ্দেশ্য? অথবা পূর্ব প্রতিশ্রুতি ও বর্তমান আসন সংখ্যা, এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে আড়াই বছর মেয়াদে মুখ্যমন্ত্রিত্ব ভাগাভাগি করার ফর্মূলা হবে বিহারে? এতদিন পর এত কৌশল করে শাসক জোটে বেশি আসন পেয়ে বিজেপি নির্বিবাদে নীতিশের নেতৃত্ব মেনে নেবে তা ভাবার কোনও কারণ নেই। গতকাল থেকেই বিজেপির রাজ্যস্তরের একাধিক নেতা আসনের বিচারে বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর দাবি আলগোছে তুলতে শুরু করেছেন। আশা, নীতিশ নিজেই যাতে আর মুখ্যমন্ত্রী হতে না চান। তবে শুরু থেকে বিজেপির দাদাগিরি হজম করে নীতিশের পক্ষে টানা ৫ বছর মুখ্যমন্ত্রী থাকা যে কার্যত অসম্ভব তা এখনই বলা যায়। বাকি রইল আরেকটি সম্ভাবনা। বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী এবং বাইরে থেকে সরকারকে সমর্থন দিল জেডিইউ। পরে সুযোগ বুঝে সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে বিজেপিকেও পাল্টা সবক শেখানোর চেষ্টা করতে পারেন নীতিশ।
আরও পড়ুন-মোদি, মহিলা ও মুসলিম! বিহারে ৩ ‘ম’ অংকে বাজিমাত এনডিএর



