Thursday, May 14, 2026

NASA: আনুমানিক ১৩৮০ কোটি বছর আগের ব্রহ্মাণ্ডের ছবি ধরা পড়ল টেলিস্কোপে!

Date:

Share post:

সৃষ্টির আদিকাল থেকেই রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। অতীতের ব্রহ্মাণ্ডের ছবি সবার সামনে তুলে ধরতে একের পর এক গবেষণা করে চলেছে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। অবশেষে সার্থক হল পরিশ্রম। প্রায় অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখাল আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA)। তাদের টেলিস্কোপে ধরা পড়ব মহাবিশ্বের প্রাথমিক অবস্থা (Earliest Galaxies)যা আনুমানিক ১৩৮০ কোটি বছর আগের ছবি বলেই মত বিজ্ঞানীদের।

মহাকাশ নিয়ে প্রতিমুহূর্তে গবেষণা করে চলেছে নাসা। সেইমতো একের পর এক স্পেস রকেট (Space Rocket),টেলিস্কোপ (Telescope)মহাকাশে পাঠান হয়, যার মাধ্যমের সৃষ্টির আদি রহস্যের সমাধান করা সম্ভব হয়। সেই কাজেই মিলল বিরাট সাফল্য। টেলিস্কোপে যে ছবি ধরা পড়েছে তা এক নজরে দেখে মনে হবে যেন দীপাবলির রাতের আকাশ। তবে ঘন কালো ক্য়ানভাসে যে আলোর রেখা দেখা গেছে, তা আসলে গ্রহ-নক্ষত্র সমেত একাধিক ছায়াপথ। উল্লেখ্য, গত বছর ২৫ ডিসেম্বর জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপটি (James Web Space Telescope) মহাশূন্য়ের উদ্দেশে রওনা দেয়। প্রায় একমাস ছুটে চলার পর পৃথিবীর কক্ষপথ ছাড়িয়ে ১৫ লক্ষ কিলোমিটার দূরত্বের গন্তব্যে পৌঁছয়। মুলত ২টি উদ্দেশ্যে টেলিস্কোপটিকে প্রেরণ করা হয়। এক, ব্রহ্মাণ্ডের আদি নক্ষত্রগুলোর ছবি তোলা এবং দুই, দূর-দূরান্তের গ্রহগুলি প্রাণধারণের উপযোগী কিনা সেই বিষয়ে অনুসন্ধান করা। এর মধ্যে প্রথমটিতে সফল হয়েছে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ । সোমবার হোটাইট হাউস থেকে তার ঘোষণা করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন (Joe Baiden)। নাসা (NASA)সূত্রে খবর, যে ছায়াপথের ছবি ধরা পড়েছে টেলিস্কোপের ক্যামেরায়, পৃথিবী থেকে তার দূরত্ব ৪৬০ কোটি আলোকবর্ষ। কিন্তু এত স্পষ্ট, এত উজ্জ্বল ছবি আগে পাওয়া যায়নি। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ১৩৮০ কোটি বছর আগে ব্রহ্মাণ্ডের সূচনাপর্বের অবস্থা ফুটে উঠেছে ছবিতে। নাসা-র অ্যাডমিনিস্ট্রেটর বিল নেলশনের (Bill Nelson) কথায়, “প্রতি সেকেন্ডে আলোর গতিবেগ ১ লক্ষ ৮৬ হাজার মাইল। তাই বর্তমানে নক্ষত্রের যে আলো আমরা দেখি, তা আসলে ১৩০০ বছরের যাত্রা পার করে আমাদের কাছে এসে পৌঁছচ্ছে। এটি প্রথম ছবি হলেও, আরও পিছনে যাচ্ছি আমরা। ব্রহ্মাণ্ডের বয়স ১৩৮০ কোটি বছর। একেবারে সূচনাপর্বেই ফিরছি আমরা।” ওই টেলিস্কোপে সাড়ে ছয় মিটার চওড়া একটি আয়না রয়েছে। অবরোহিত রশ্মি ধরে নেওয়ার উপযুক্ত অত্যাধুনিক প্রযুক্তিও বসানো রয়েছে তাতে। তাতেই বিকৃত ছায়াপথ ধরা পড়েছে, বিগ ব্যাং-এর পর ৬০ কোটি বছর আগেও যেগুলির অস্তিত্ব ছিল মহাশূন্যে। মহাকাশ গবেষণায় এ এক বড় সাফল্য বলছেন বিজ্ঞানীরা।


Related articles

গরমের ছুটির বিজ্ঞপ্তিতে উল্টে গেল ‘সত্যমেব জয়তে’!

মিরর ইমেজ, নতুন সরকারের শুরুতেই হোঁচট! গরমের ছুটি বাড়ানোর জন্য নির্দেশিকায় সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে থাকা অশোক স্তম্ভের নীচে ‘সত্যমেব...

লক্ষ্মীবারে চড়ছে পারদ, বিকেলে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা দক্ষিণবঙ্গে!

ভরা গ্রীষ্মের মরশুমেও দফায় দফায় ঝড়বৃষ্টি আর মেঘলা আকাশের জেরে অস্বস্তিকর গরমের অনুভূতি সামান্য কমলেও, চলতি সপ্তাহের শুরু...

নির্ভয়াকাণ্ডের স্মৃতি উস্কে দিল্লিতে চলন্ত বাসে তরুণীকে গণধর্ষণ

ভয়ানক! নির্ভয়াকাণ্ডের (Nirvaya Rape Case) পুনরাবৃত্তি। ফের রাজধানীতে (Delhi Incident) চলন্ত বাসের মধ্যে তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য...

IPL: আরসিবির বিরুদ্ধে হারেও টিকে নাইটদের প্লে অফের আশা, জানুন সমীকরণ

বড় রান করেও আরসিবির (RCB)কাছে হারতে হয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে(KKR)। যা নাইটদের প্লে অফের স্বপ্নে বড় ধাক্কা। টানা...