Saturday, May 9, 2026

শুভেন্দুর পরেই শপথ দিলীপের! মন্ত্রিসভার ‘সেকেন্ড ম্যান’ কে- বুঝিয়ে দিল গেরুয়া শিবির!

Date:

Share post:

রাজ্যের প্রথম বিজেপি (BJP) সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Shubhendu Adhikari)। শনিবার, ব্রিগেডের মঞ্চে তাঁর আর ঠিক পরেই শপথ নেন খড়্গপুর সদরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই শপথগ্রহণের ক্রমই বুঝিয়ে দিল শুভেন্দু-মন্ত্রিসভার ‘সেকেন্ড ম্যান’ কে। এখনও মন্ত্রীদের দফতর বণ্টন হয়নি। শপথও নিয়েছেন মাত্র ৫ জন। এই মন্ত্রিসভায় যদি উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদ রাখা হয়, তবে সেটা দিলীপ ঘোষের জন্যেই বরাদ্দ বলে মত রাজনৈতিক মহলের।

২০৭ আসনে জিতে বাংলায় প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি (BJP)। মুখ্যমন্ত্রী নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। ব্রিগেডে শুভেন্দু ছাড়া মাত্র ৫জন মন্ত্রী শপথ নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর পরেই শপথ নিয়েছেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। এছাড়া, একজন মহিলা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। উত্তরবঙ্গের এক প্রতিনিধি নিশীথ প্রামাণিক। আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি বাঁকুড়া রানিবাঁধের বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডু। মতুয়া সম্প্রদায়ের থেকে অশোক কীর্তনিয়া। অর্থাৎ সব জায়গা ও সম্প্রদায়কে মন্ত্রিসভায় যে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে- এই বার্তাই দিতে চাইছে বিজেপি। আর সেখানে শুভেন্দুর পরেই স্থান দিলীপের।

২০১৬-খড়্গপুর সদর থেকেই জিতে প্রথমবার বিধায়ক হন দিলীপ ঘোষ। এবার তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকারকে ৩০ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে বিধায়ক শুধু নয়, মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন তিনি। পদ্ম শিবিরের অন্দরই হোক বা বিরোধীদল- সবার মতেই রাজ্যে বিজেপিকে রাজনীতির অলিন্দ্যে প্রাসঙ্গিক করার অন্যতম প্রধান কান্ডারি দিলীপ ঘোষ। তাঁর আমলেই বাংলায় পায়ের তলায় মাটি পায় গেরুয়া শিবির। ২০১৯-এ লোকসভা ভোটে মেদিনীপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে তৃণমূলের মানস ভুঁইয়াকে ৯০ হাজারের কাছাকাছি ভোটে হারান দিলীপ। শুরু হয় সংসদীয় রাজনীতির যাত্রা। ২০২১-এর ভোটে দিলীপের নেতৃত্বেই রাজ্যে ‘পালাবদলের’ হাওয়া ওঠে। তবে শেষপর্যন্ত ৭৭ আসন নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় বিজেপিকে। কয়েক মাসের মধ্যে রাজ্য সভাপতি পদ থেকে সরানো হয় তাঁকে। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে চেনা মাঠ থেকে সরিয়ে মেদিনীপুরের ভূমিপুত্রকে বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে কাজ করেনি দিলীপ-ক্যারিশ্মা। হেরে যান তিনি। এরপরে রাখঢাক না করে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন দিলীপ।

দলে তখন শুভেন্দু-সুকান্ত জুটির জমানা। সভায় গেলে বসার জন্য চেয়ার পর্যন্ত জুটত না বলে অভিযোগ করেছেন খোদ দিলীপ ঘোষ। দলের সঙ্গে দূরত্ব আরও বাড়ে তাঁর বিয়ের পর। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) আমন্ত্রণে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে সস্ত্রীক যাওয়ার পরে দলের মধ্যেও সমালোচনা শুনতে হয় দিলীপকে। কিন্তু শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতি হওয়ার পরে আবার কাছে টেনে নেন প্রাক্তনকে। বিধানসভায় পুরনো কেন্দ্রেই টিকিট পান দিলীপ। জয়ে ফেরেন তিনি।

নিজের মন্তব্যের জন্যেও বারবার বিতর্কে জড়িয়েছেন দিলীপ। কখনও গরুর দুধে সোনা, বা বিরোধীদের বুকে পা তুলে দেওয়ার হুমকি, এমনকী বুদ্ধিজীবীদের ‘রগড়ে’ও দিতে চেয়েছেন একসময়ের সংঘ প্রবর্তক। জেতার পরেও সাফ জানিয়ে দেন, “সংখ্যালঘু উন্নয়নের দায় নেই বিজেপির। কারণ ওরা আমাদের ভোট দেয় না।“
আরও খবরশ্যামাপ্রসাদের সহকর্মী নবতিপর মাখনলালকে সম্বর্ধনা, ব্রিগেডে বাংলার সিনে-সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্টরা 

তবে, মুখ্যমন্ত্রীর পরে শপথ গ্রহণ করিয়ে গেরুয়া শিবির বুঝিয়ে দিল- মন্ত্রিসভায় দিলীপকে কোন স্থান দিচ্ছে দল। একই সঙ্গে আদি-নব্যের দ্বন্দ্ব মিটিয়ে একসঙ্গে চলার বার্তাও পদ্মশিবির দলীয় নেতৃত্বকে দিতে চাইল বলে মত রাজনৈতিক মহলের।

Related articles

কোনও ইগো নেই: বাংলায় বাম-অতিবাম-সহ অবিজেপি সবদল নিয়ে জোটের বার্তা মমতার

বিজেপিকে রুখতে এবার বাংলায় বাম-অতিবাম-সহ বিজেপি (BJP) বিরোধী সবদল নিয়ে জোটের বার্তা দিলেন তৃণমূল (TMC) সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়...

রাজ্যপাল ইচ্ছা করে বাধা দিচ্ছেন বিজয়কে: সরব সিপিআইএম, মামলা সুপ্রিম কোর্টে

ম্যাজিক ফিগার না ছুঁলেও বিধানসভায় দাঁড়িয়ে সরকার গঠনের সময়ে নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারেন কি না তা দেখার...

পালাবদলের পরেই ‘গণশক্তি’-র পাতাজোড়া রাজ্যের বিজেপি সরকারের বিজ্ঞাপন!

রাজ্যে পালাবদল ঘটতেই সিপিআইএমের (CPIM) দৈনিক মুখপত্র ‘গণশক্তি’-র (Ganashakti) পাতাজোড়া রাজ্য সরকারের বিজ্ঞাপন। বাংলায় বিজেপি সরকার আসতেই শিকে...

সেলফির নামে রোহিতের কোটি টাকার ঘড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা! ক্ষুব্ধ হিটম্যান

অনুরাগীর নিজস্বী তোলার আবদার মেটাতে গিয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছিল প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মাকে (Rohit Sharma)।...