Friday, June 26, 2026

মুখ্যমন্ত্রীর সুরেই প্রতিবাদী ডাক্তাররা, হঠকারী আচরণের অভিযোগ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে

Date:

Share post:

করোনা প্রতিরোধে একদিকে, রাজ্যকে অন্ধকারে রেখে বারবার গাইডলাইনের পরিবর্তন করছে কেন্দ্রীয় সরকার। অন্যদিকে করোনা কিটের অপ্রতুলতা এবং ব্যবহার অযোগ্য কিট সরবরাহ যে ভাইরাস প্রতিরোধ সমস্যাকে অনেকটাই বাড়াচ্ছে, তা বারবার দেখা যাচ্ছে। আর এই হঠকারিতার সমালোচনা করেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একযোগে অভিযোগ করছেন রাজ্যের বহু বিশিষ্ট চিকিৎসক।

চিকিৎসকরা বলছেন, লকডাউন চলাকালীন রাতারাতি রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে কোনোওরকম আলোচনা ছাড়াই বেশ কিছু দোকান বাজার খোলার অনুমতি দেওয়ায় সমস্যা আরও বেড়েছে। এখন আবার অন লাইনের রাস্তাও খুলে দেওয়া হয়েছে। দোকান খোলা থাকায় মানুষের ভিড় বাড়ছে আর সেখান থেকেই গোষ্ঠী সংক্রমণের সম্ভাবনার শুরু হচ্ছে। কোনও রাজ্যের হাতে এমন সংখ্যক পুলিশ নেই যারা রাজ্যের প্রতিটি এলাকায় মানুষের যাতায়াতের উপর নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। ফলে কেন্দ্রের এই ভূমিকাকে আদৌ যথাযথ এবং বৈজ্ঞানিক বলে মনে করছেন না চিকিৎসক দল। আর এই ক্ষোভের জায়গাটি সোমবার নবান্নের সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি যথার্থভাবেই বলেছেন, দোকান বাজার খোলা থাকলে মানুষ তো সেখানে যাবেনই। ফলে কেন্দ্রের হঠকারী সিদ্ধান্তের মুখোমুখি পড়তে হচ্ছে। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে গিয়ে নতুন নতুন সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে রাজ্য সরকারকে।

দ্বিতীয়ত, কিটের অপ্রতুলতা। বারবার মুখ্যমন্ত্রী এ ব্যাপারে বলছেন। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অব্যবহারযোগ্য কিট, যেগুলি ফেরত দিতে হয়েছে। নতুন কিট আসার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। আর এর জন্য জলে গিয়েছে সময়।

তৃতীয়ত, লকডাউন শুরু হওয়ার আগে থেকেই কেন্দ্রের কাছে ১৪টি সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরির অনুমতি চেয়েছিল রাজ্য। সেই অনুমতি পর্যায়ক্রমে এসেছে। ফলে পরীক্ষার আনুপাতিক হারও সেইভাবেই বেড়েছে। এই অনুমতি যদি প্রথম থেকেই পাওয়া যেত এবং তার কাঠামোগত সাহায্য করত কেন্দ্র, তাহলে কিন্তু রাজ্য পরীক্ষা বা টেস্টের ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে থাকত।

চতুর্থত, অন্য রাজ্যগুলির সঙ্গে তুলনা করলে নিশ্চিতভাবে পশ্চিমবঙ্গে পরিসংখ্যান প্রমাণ করে দেবে রাজ্য কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে। আর এটা যে সামজিক দূরত্ব মেনে চলা বা লকডাউনকে মেনে চলার জেরেই হয়েছে, তা প্রমাণিত। কেন্দ্রীয় দলও অধিকাংশ এলাকাকে কার্যত সার্টিফিকেট দিয়েছেন। কিছু অভিযোগ তো থাকবেই।

ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে অভিযোগ বা সমস্যার কথা সামনে এনেছেন সেটাকেই রাজ্যের বহু চিকিৎসকের মুখে। প্রশ্ন উঠেছে রাজ্যগুলিকে অন্ধকারে রেখে কেন্দ্র বারবার মূল সমস্যা থেকে সরে যাচ্ছে। আর তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনীতি করছেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। মানুষ কিন্তু বুঝতে পারছেন, আসলে হাততালি আর প্রদীপ জ্বালানোর আড়ালে রাজনীতি করছেন কারা?

Related articles

দাম বাড়তে চলেছে পাউরুটির! বড় সিদ্ধান্তের পথে একাধিক বেকারি সংস্থা

জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। এবার প্রভাব পড়তে পারে প্রাতরাশের মেনুতেও। কারণ মধ্যবিত্তের প্রিয়...

ড্রোন -নাইট ভিশন ক্যামেরায় তারাতলা গোডাউনে উদ্ধারকাজ সেনার

ভারী বৃষ্টির দুর্যোগে জেরে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর দফায় দফায় থমকে যায় তারাতলার গোডাউনের উদ্ধারকাজ (Taratala Rescue Operation)। রাতেও...

নবান্নে কাকলি-শতাব্দী-সুদীপ: শুভেন্দু-সাক্ষাতে কী কথা!

তৃণমূলে বিক্ষোভ দেখিয়ে কমপক্ষে ১৯জন সাংসদ নিয়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন বর্ষীয়ান সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার (Kakoli Ghoshdastidar। জানিয়েছেন তাঁরা...

নেই হাজিরা, মামলা নিষ্পত্তিতে অনীহা, নতুন সরকারের আইনজীবী প্যানেল নিয়ে ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর এবার নতুন সরকারের সরকারি আইনজীবী প্যানেল নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতে...