বাঙালি যুবকের অদম্য জেদ, অস্ট্রেলিয়ায় চালু বাংলা ভাষার ওয়েবাসাইট

অতিমারিকালে হঠাৎ কোভিড সংক্রান্ত তথ্যের প্রয়োজন! এবার ক্যাঙ্গারুর দেশে বসেই বাংলা ভাষাতে সেই সব তথ্য পেয়ে যাবেন আপনি। শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি। আর এর পিছনে আছে অস্ট্রেলিয়া নিবাসী বাঙালির অদম্য লড়াই। তাঁর চেষ্টাতেই অস্ট্রেলিয়ায় তৈরি হলো কোভিড সংক্রান্ত প্রথম বাংলা ভাষার ওয়েবসাইট।

দেশে থেকেই অনেকেই ভুলতে বসেছেন মাতৃভাষাকে। কিন্তু দূরদেশে বসে দৃষ্টান্ত তৈরি করলেন অর্ণব ঘোষ রায়। অস্ট্রেলিয়ার বাঙালিদের পাশে থাকতে কোভিড সংক্রান্ত একটি সরকারি বাংলা ওয়েবসাইট বানানোর উদ্যোগ নিয়েছেন বছর আটত্রিশের যুবক। তাঁর এই উদ্যোগে সম্মতি দিয়েছে দিয়েছে ভিক্টোরিয়া প্রদেশের সরকার। অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের সমস্ত নথি বাংলায় প্রকাশিত হচ্ছে। কী কী মিলবে এই ওয়েবসাইটে? করোনা সংক্রান্ত হাজারো তথ্য, সাবধানবানী, পরামর্শ সমস্ত কিছুই বাংলায় লেখা থাকবে। পাশাপাশি কীভাবে নিরাপদ ও সুস্থ থাকা যায়, করোনা পরিস্থিতিতে কী কী সরকারি সাহায্য পাওয়া যেতে পারে, পরীক্ষা ও আইসোলেশনে থাকা সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাবে।

বাবা ছিলেন রাজ্য সরকারি কর্মচারি। বারাসতের ছেলে অর্ণব ঘোষ রায়। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। পরিবারের আর্থিক সংকটের মধ্যেও লেখাপড়া করতে ২০০৩ সালে অষ্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দেন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান অর্ণব। দুবছর পর ফেডারেল ইউনিভার্সিটি থেকে কমার্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০৭ সালে অ্যাসোসিয়েট মেম্বার অব ইন্সটিটিউট অব পাবলিক অ্যাকাউন্টেন্ট। ২০০৯ সালে সেখানে নাগরিকত্বের অধিকার পান। ২০১৪ সালে ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ। সলিসিটর হওয়ার লক্ষ্যে এখন ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন পড়ছেন অর্ণব। একইসঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বাংলাপক্ষের প্রধান অর্ণব।

প্রায় ৫৫ হাজার বাঙালি অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ী নাগরিক হিসেবে ভিক্টোরিয়ায় আছেন। এই সংখ্যা শুধুমাত্র ভারতের। এছাড়াও বাংলাদেশের বাঙালিরাও আছেন। কেন হঠাৎ উদ্যোগ? অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে থাকতে অর্ণব উপলব্ধি করেন ভাষাগত কারণে পিছিয়ে পড়ছেন প্রবীণ বাঙালিরা। এই সমস্যা দূর হলে তাঁদেরও সুবিধা হবে। এই বিষয় নিয়ে স্থানীয় সাংসদের সঙ্গে আলোচনা করেন অর্ণব। এই কাজে আরও একধাপ এগোতে মেলবর্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা করেন তিনি। এরপর সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর চলতি সপ্তাহে চালু হয়েছে স্বাস্থ্য দফতরের বাংলা ওয়েবসাইট।

আরও পড়ুন:রাশিয়ায় এবার করোনার দ্বিতীয় ভ্যাকসিনের অনুমোদন