বিশ্বাসঘাতক-মিথ্যাবাদী নন্দীগ্রাম থেকে ভোটে দাঁড়িয়ে দেখাও, শুভেন্দুকে চ্যালেঞ্জ কল্যাণের

মেদিনীপুরে অমিত শাহের (Amit Shah) জনসভায় বিজেপিতে যোগদানের পর নিজের পুরোনো দলের প্রতি ক্ষোভ উগরে দেন প্ৰাক্তন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Subhendu Adhikari)। এদিন শাহের মঞ্চ থেকেই একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করেন শুভেন্দু। প্রত্যাশিতভাবে তাঁর দিকেও তৃণমূলের তরফ থেকে ধেয়ে এল একের পর এক বোমা। এদিন তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে শুভেন্দু নিয়ে রীতিমতো বিস্ফোরক তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। সরাসরি শুভেন্দুর বিরুদ্ধে তলে তলে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ তুলে দিলেন তিনি। যা নিয়ে উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি। একইসঙ্গে কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়ের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, ক্ষমতা থাকলে শুভেন্দু নন্দীগ্রাম থেকে ভোটে দাড়িয়ে দেখাক। দলবদল করেছে, যেন আসন বদল না করে।

কল্যাণ বলেন, “দেখলেন তো, ঠাকুর ঘরে কে আমি তো কলা খাইনি! শুভেন্দু নিজেই আজ বলে দিল ২০১৪ সাল থেকে সম্পর্ক রয়েছে বিজেপির সঙ্গে। আমি জানতাম ওর তলে তলে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। মমতাদিকে অনেকবার এই বিষয়টা বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দিদি আমার কথা বিশ্বাসই করেননি তখন।”

আরও পড়ুন- ‘ক্ষমতা থাকলে নন্দীগ্রামে জিতে দেখাক’, শুভেন্দুকে চ্যালেঞ্জ সৌগতর

কল্যাণের আরও দাবি, রাজ্য রকারের সব সুবিধা নিয়ে যিনি সরে দাঁড়ান, দলে থাকাকালীন অন্য পার্টির সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তাঁকে বিশ্বাস করা যায় না। গত বছর ডিসেম্বরে তাঁকে এক বিজেপি সাংসদ জানিয়েছিলেন, শুভেন্দুর নাকি অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করার জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়েছেন। কিন্তু অমিত শাহ তখন পাত্তাই দেননি।

এরপরই আসল বোমাটি ফাটান কল্যাণ। বলেন, “আমার কাছে শুভেন্দুর এমন সব ভিডিও আছে, তা দেখালে সবাই কিন্তু চমক যাবে। কী সব তার মুখের ভাষা! এ নাকি মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী? এই সব ভাষা বলে সে! সব ভিডিওই রাখা আছে। প্রয়োজনে ফাঁস করে দেবো। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনের শুরু থেকেই তীব্র ভাষায় শুভেন্দু অধিকারীকে আক্রমণ করেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ। তাঁর কথায়, “শুভেন্দু আদর্শহীন, বিশ্বাসঘাতক, মিথ্যাবাদী।”

আরও পড়ুন- জানুয়ারির শুরুতেই নন্দীগ্রামে সভা করতে পারেন মমতা

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অধিকারী পরিবারতন্ত্রের আদৌ কি কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা আছে? প্রশ্ন তুলে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ২০১৪ সালে লোকসভায় জিতে আবার ২০১৬-তে ফিরে আসেন শুধু মন্ত্রী হওয়ার জন্য। শুধু আপনার জন্য একটা উপনির্বাচন করতে হয়েছিল। কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছিল তাতে। শুভেন্দু বলছেন, দলটা একেবারে পচে গিয়েছে। তাহলে এতদিন আপনি ছিলেন কেন? এক, আপনার ব্রেনের থিঙ্কিং প্রসেসটা অত্যন্ত স্লো যে আপনার বুঝতে বুঝতেই ১০ বছর সময় লেগে গেল। নইলে বুঝতে হবে যে নিজের ডিফেন্সের জন্য পর পর মিথ্যে কথা বলে গেলেন। আজ যে প্রণাম শুভেন্দু অমিত শাহকে (Amit Shah) করলেন, একই রকমভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও (Mamata Banerjee) একদিন করেছিলেন! আপনাকে ৩-৩টে মন্ত্রিত্ব, ৪-৫টা জেলার পর্যবেক্ষক করা হয়েছিল। আর কী সম্মান দেবেন? মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারটা দিয়ে দিতেন? যে কোনও মিটিংয়েই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে খুঁজতেন, শুভেন্দু না এলে মিটিংই শুরু করতেন না। আদর্শের কথা আপনি কী বলবেন? মেদিনীপুরের মাটিতে, মাতঙ্গিনী, বিদ্যাসাগর ও ক্ষুদিরামের দেশে এরকম আদর্শহীন, বিশ্বাসঘাতক! মানুষ ভাবতে পারে না। শুভেন্দু যেখানে যেখানে জেলার পর্যবেক্ষক ছিলেন, সেখানে সেখানে ভোট বেড়েছিল বিজেপির (BJP)। এর থেকেই বোঝা যায় কত বড় চক্রান্ত করেছেন। ২০১৪ সাল থেকে অমিত শাহর সঙ্গে ওর যোগাযোগ ছিল।”

একইসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশে চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দিয়েছেন কল্যাণ ব্যানার্জি (Kalyan Banerjee)বলেন, “এত বড় নেতা হলে, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৪ সালে হারলেন কেন? লক্ষ্মণ শেঠের বিরুদ্ধে? আসন্ন নির্বাচনে আবার নন্দীগ্রামেই দাঁড়ান, দয়া করে আসন বদলাবেন না। কিন্তু আসনটা আমরাই জিতবই। ২০২১-এ যে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের (Mamata Banerjee) নামে ঝড় উঠবে।”

এদিন অমিত শাহের জনসভায় বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নেওয়ার পর নিজের বক্তব্যে বাংলা থেকে তৃণমূলকে হটানোর ডাক দিয়েছেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। “তোলাবাজ ভাইপো হঠাও” বলে নিশানা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Avishek Banerjee)। এই প্রসঙ্গে পাল্টা দিয়ে কল্যাণ বলেন, “কাপুরুষ, বুকের পাটা নেই। তাই ভাইপোর নাম মুখে নিতে পারলেন না শুভেন্দু। বুকের পাটা থাকলে, মুখে নাম নিয়ে দেখুন। পরিবারতন্ত্র নিয়ে বলা হচ্ছে, অধিকারী পরিবারতন্ত্র নিয়ে তাহলে চুপ কেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারে কেউ মুখ্যমন্ত্রী হতে চান না। তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করেছে বাংলার মানুষ।”

এদিন মেদিনীপুর কলেজ মাঠে অমিত শাহের লোক হয়নি বলেও দাবি করেন কল্যাণ। তাঁর দাবি, এদিন মেদিনীপুরের মাঠ ভরেনি। মাঠ ভরাতে পারেননি শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। যাঁরা তাঁর সঙ্গে আজ BJP যোগদান করেছেন, তাঁরা প্রচুর লোক নিয়ে গিয়েও মাঠ ভরাতে পারেননি। মাঠে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা বেশিরভাগই সব বাইরের লোক। মেদিনীপুরের কেউ নন। আজকের জনসভা সুপার ফ্লপ।

আরও পড়ুন- ৩৬ !!! ভেঙে গেল ৪২ এর রেকর্ড, সম্রাট চট্টোপাধ্যায়ের কলম