Sunday, June 21, 2026

নাগাল্যান্ড গুলিকান্ড: বেঁচে ফেরা যুবকের বয়ানে প্রশ্নের মুখে সংসদে শাহের সাফাই

Date:

Share post:

শরীরে দুটি বুলেটের ক্ষত। একটা কনুই, আর একটা কাঁধে। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন নাগাল্যান্ডের(Nagaland) মন জেলায় অসম রাইফেলসের(Assam Rifles) গুলিতে বেঁচে ফিরে আসা শেইওয়াং। ওই অবস্থাতেই বিছানায় শুয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে প্রায় ফিসফিস করে তিনি জানালেন, “আচমকাই ওরা আমাদের লক্ষ্য করে গুলিবৃষ্টি শুরু করল। সবাইকে মেরে ফেলল।” শুধু তাই নয় বয়ানে স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছে, “ওরা কখনওই থামার নির্দেশ দেয়নি। সরাসরি আমাদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। আমরা পালানোরও চেষ্টা করিনি।”

গত শনিবার নাগাল্যান্ডের মন জেলায় সেনাবাহিনীর গুলিতে ও তার পরবর্তী ঘটনাক্রমে মৃত্যু হয় ১৪ জন গ্রামবাসীর। যদিও কপাল জোরে প্রাণে বেঁচে যান দুইজন। তাদের একজন ছিলেন শেইওয়াং। আর অন্যজন বছর তিরিশের ইয়েহওয়াং। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিবৃতি দিয়েছিলেন, “গাড়িটিকে প্রথমে আমার নির্দেশ দিয়েছিল সেনাবাহিনী কিন্তু পিকআপ ভ্যানটি পালানোর চেষ্টা করে এরপরই গুলি চালানো হয় সেনার তরফে।” যদিও অমিত শাহের সেই বক্তব্যের উল্টো বয়ান দিলেন ঘটনাস্থল থেকে বেঁচে ফিরে আসা শেইওয়াং।

আরও পড়ুন:দাবি মানলো সরকার, এক বছরের আন্দোলন থামিয়ে শনিবার ঘরে ফিরবেন কৃষকরা

সেদিনের সেই ভয়াবহ স্মৃতি হাতড়ে খনি শ্রমিক শেইওয়াং বলেন, “কয়লা খনির কাজ শেষ করে দিনের আলো থাকতে থাকতেই বেলা ৩টে নাগাদ আমরা তিরু উপত্যকা থেকে ওটিংয়ের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলাম। ট্রাকে ছিলাম ৮ জন। আচমকাই রাস্তার মাঝখানে ওরা গুলি চালাতে শুরু করে। কতক্ষণ ধরে গুলি চলেছিল মনে নেই। মনে হচ্ছিল যেন বোমা ফাটছে। তখন ঠিকমতো অন্ধকারও হয়নি। তাও ওরা গুলি চালাল।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “ওরা কখনওই থামার নির্দেশ দেয়নি। ওরা সরাসরি আমাদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। আমরা পালানোরও চেষ্টা করিনি। গাড়ির মেঝেতে শুয়ে পড়েছিলাম।”

ঘটনা এখানেই শেষ নয়, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুজনকে আনা হয়েছিল হাসপাতালে। সেখানে তাদের চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়েমখাহকে। যিনি শেইওয়াংয়ের আত্মীয়ও। হাসপাতালে তাকে সেদিনের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছিলেন শেইওয়াং। নিয়েমখাহকের বয়ান অনুযায়ী, “সেদিন গ্রামে ফেরার পথে সবে তিরু ব্রিজ পার করেছিল শেইওয়াংদের ট্রাক। তারপরই রাস্তার ধারের একটি বড় গর্তে গড়িয়ে যায় গাড়িটির চাকা। তখনই আচমকা তাঁদের লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি ছুটে আসতে থাকে। সামনে ও পিছন দিক থেকে প্রায় ২-৩ মিনিট ধরে চলেছিল গুলিবৃষ্টি। এরপর ভ্যান থেকে দেহগুলি টেনে-হিঁচড়ে রাস্তায় ফেলা হচ্ছিল। জ্ঞান হারানোর আগে ওই দৃশ্য দেখেছিল শেইওয়াং। নিজের ভাই থাকওয়াংয়ের দেহটিও গাড়ি থেকে ওইভাবে বের করতে দেখে ও। তারপর আর তাঁর কিছু মনে নেই।’

Related articles

২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য দিবস কেন?

আজকের দিনে, অর্থাৎ 1947 সালের 20 জুন বঙ্গীয় আইনসভার বৈঠকে অখণ্ড বাংলার বিধায়করা বাংলা ভাগ করে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য...

আয়ুর্বেদ নিয়ে ঢাকঢোল কেন্দ্রের, ১২১ কোটিতে বেসরকারি হাতে রাষ্ট্রায়ত্ত ওষুধ সংস্থা 

একদিকে যখন দেশজুড়ে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যবহার বাড়াতে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার লাগাতার প্রচার চালাচ্ছে, ঠিক তখনই...

যোগের দিবসের আগে অভিনব ড্রোন শো, সাক্ষী মুখ্যমন্ত্রী

রবিবার দেশজুড়ে পালিত হবে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। এবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে কলকাতা। শুক্রবার সকাল থেকেই যোগ দিবসের কাউন্টডাউন শুরু...

সময়সীমা বাড়াতে নারাজ দিল্লি পুলিশ! শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে যন্তর মন্তরে অনড় দীপকে 

প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিট (NEET) পরীক্ষার অনিয়ম ঘিরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের উত্তাপ আরও...