লোকসভা নির্বাচনে কষ্টার্জিত জয়। একের পর এক বিধানসভা নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনকে হাতিয়ার করে যে জয়ের পথে এগিয়েছে তা ক্রমশ ধরা পড়ে গিয়েছে গোটা দেশের কাছে। এরপরে গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভাগুলিতে কঠিন লড়াই বিজেপির। কেরল, বাংলা, তামিলনাড়ুর মতো বিরোধী শাসিত রাজ্যে বিজেপি ধরাশায়ী হলে মুখ পুড়বে নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi)। তার আগেই এক বছরের বেশি শূন্য থাকার পরে সর্বভারতীয় সভাপতির পদে অভিষেক নীতীন নবীনের (Nitin Nabin)। নতুন নেতৃত্বের হাতে দলকে তুলে দেওয়ার শুরুতে নিজেদের ব্যর্থতাই বেশি ভাবাচ্ছে নরেন্দ্র মোদিকে। ফলে সভাপতির সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের (Congress) ব্যর্থতার উদাহরণ তুলে ধরে দলীয় কর্মী সমর্থকদের সতর্ক করলেন মোদি।

মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) ২৯ পুরনিগম নির্বাচনে জয় দিয়ে গোটা দেশের কর্মী সমর্থক থেকে সর্বভারতীয় সভাপতিকে উদ্বুদ্ধ করতে চাইলেন নরেন্দ্র মোদি। আর সেই পথেই কেরল, বাংলা, তামিলনাড়ু, পুদুচেরিতে প্রথমবার বিজেপির সরকার গঠনের স্বপ্নও দেখালেন। যদিও কোন পথে এইসব রাজ্যে ক্ষমতা দখল তা নিয়ে নতুন কোনও দিশা এদিন নীতীন নবীনকে দেখাতে পারলেন না মোদি।

তবে কংগ্রেসের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সতর্ক থাকার কথা বলতে গিয়ে মোদির (Narendra Modi) বার্তা, আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে কংগ্রেসের (Congress) খারাপ দিকগুলি থেকে যারা বাঁচতে পারবে তারাই এগিয়ে যেতে পারবে। আমাদের সেই সব খারাপ দিকগুলি থেকে দূরে থাকতে হবে যা কংগ্রেস পার্টিকে বরবাদ করে দিয়েছিল। কংগ্রেস পার্টির মধ্যে এমন কোন দূষণ ঢুকে গিয়েছিল যা কংগ্রেস পার্টিকে ধ্বংসের মুখে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আমাদের সেই সব খারাপ লক্ষ্ণণগুলি থেকে বাঁচতে হবে।

বিজেপি যে সাফল্যের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, সেই পথে কংগ্রেসের মতো সাফল্য থেকে ব্যর্থতায় নেমে আসা নিয়ে কতটা উদ্বিগ্ন মোদি, তা তাঁরা কথা স্পষ্ট। এদিন তিনি জানান, ১৯৮৪ সালে যে কংগ্রেস ৪০০-র বেশি আসন পেয়েছিল, দেশের মানুষ ৫০শতাংশের বেশি ভোট দিয়েছিল কংগ্রেসকে। কিন্তু আজ কংগ্রেস ১০০টি আসনের জন্য হাঁসফাঁস করছে। কংগ্রেস নিজেদের ঘোর পতনের কোনও সমীক্ষা চালায় না। কারণ সমীক্ষা করলে দেখতে পাবে এক পরিবারের উপর প্রশ্ন উঠছে। যে পরিবার কংগ্রেসেরউপর জবর দখল করেছে। তারা কারণ খোঁজার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে।

তবে নীতীন নবীনের মতো সর্বকনিষ্ঠ সভাপতির হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়ে মোদি এদিন স্পষ্ট করে দেন, বিজেপিতে বৃদ্ধতন্ত্রে লাগাম টানার কাজ শুরু হচ্ছে। মোদি দাবি করেন, ১ লক্ষ এমন নতুন যুব সম্প্রদায়কে রাজনীতিতে আনব যাঁদের পরিবার কখনও রাজনীতি করেনি।

আরও পড়ুন : ভারত সফরে আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট, দিল্লি বিমানবন্দরে স্বাগত প্রধানমন্ত্রীর

দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা যে বিজেপির মোদি সরকার প্রথম থেকে করে আসছে, তা নীতীন নবীনের শপথে আরও স্পষ্ট করে দিলেন মোদি। যদিও নবনির্বাচিত সভাপতির উপর আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের গুরুদায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়ার বার্তা নেই মোদির বক্তব্যে। কেরলের পুরসভা নির্বাচনের পথ ধরে কেরল বিধানসভা নিয়ে টার্গেট বাঁধলেও বাংলা বা তামিলনাড়ুর শক্ত ঘাঁটি এখনই নীতীন নবীনের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার বার্তা দিলেন না নরেন্দ্র মোদি।

–

–

–


