Wednesday, June 3, 2026

AI-এর ধাক্কায় কি ৯ কোটি ছাঁটাই, নাকি ১৭ কোটি নিয়োগ? আশঙ্কার মধ্যেই আশার আলো দেখালেন নীলেকণি 

Date:

Share post:

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’-এর দাপটে বিশ্বজুড়ে কর্মহীন হওয়ার যে প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তাকে ঘিরে আইটি মহলে বিতর্ক নতুন নয়। তবে সেই বিতর্কেই এবার নয়া মাত্রা যোগ করলেন ইনফোসিসের চেয়ারম্যান নন্দন নীলেকণি। তাঁর দাবি, এআই-এর প্রবল ঢেউয়ে বিশ্বজুড়ে অন্তত ৯ কোটি মানুষের কাজ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে তৈরি হবে প্রায় ১৭ কোটি নতুন চাকরির সুযোগ। অর্থাৎ, হারানোর চেয়ে পাওয়ার পাল্লাই ভারী হতে পারে আগামীর প্রযুক্তি বাজারে।

বেঙ্গালুরুতে সম্প্রতি আয়োজিত ‘এআই ইনভেস্টর ডে ২০২৬’ অনুষ্ঠানে নিজের বিশ্লেষণ পেশ করতে গিয়ে নীলেকণি জানান, এআই এমন ভাবে ব্যবসার খোলনলচে বদলে দিচ্ছে, যা অতীতে অন্য কোনও প্রযুক্তি করতে পারেনি। তাঁর মতে, ফ্রন্ট-এন্ড ডেভেলপার, কিউএ টেস্টার কিংবা ব্লকচেইন ডেভেলপারের মতো নির্দিষ্ট দক্ষতার ভিত্তিতে যারা কাজ করছেন, তাঁদের অনেকেরই ভূমিকা আগামী দিনে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, এই ধরনের ধরাবাঁধা কাজ মানুষের চেয়ে অনেক দ্রুত ও নির্ভুল ভাবে করতে সক্ষম এআই।

তবে এই মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। নীলেকণির মতে, প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নতুন ধরনের পেশার চাহিদা। তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলি এখন তাদের বাজেটের সিংহভাগ খরচ করছে পুরনো সিস্টেমকে এআই-সহযোগী করে তুলতে। যার ফলে এআই ইঞ্জিনিয়ার, এআই ফরেন্সিক অ্যানালিস্ট কিংবা ‘এজেন্টিক ওয়ার্কফ্লো আর্কিটেক্ট’-এর মতো নতুন পাঁচটি পেশা আগামী দিনে প্রযুক্তি খাতের মেরুদণ্ড হয়ে উঠবে। এর পাশাপাশি ল্যাবে বসে নয়, বরং সরাসরি হাসপাতাল বা ব্যাঙ্কের মতো সংস্থায় গিয়ে এআই সমাধান প্রয়োগ করবেন ‘ফরোয়ার্ড ডেপ্লয়েড ইঞ্জিনিয়ার’-রা। এমনকি এআই-কে তালিম দেওয়ার জন্য বিপুল তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস করতে ‘ডেটা অ্যানোটেটর’-দের চাহিদাও তুঙ্গে উঠবে।

অবশ্য নীলেকণি আশার কথা শোনালেও উদ্বেগের সুর কাটেনি অন্য বিশেষজ্ঞদের কণ্ঠে। লাটভীয় কম্পিউটার বিজ্ঞানী রোমান ইয়াম্পোলস্কি সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, ২০২৭ সালের মধ্যেই চলে আসতে পারে ‘আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স’ বা এজিআই। তাঁর দাবি, এটি মানুষের মেধাভিত্তিক কাজগুলি এতই দক্ষতার সঙ্গে করবে যে, পাঁচ বছরের মধ্যে ৯৯ শতাংশ চিরাচরিত চাকরি বাজার থেকে মুছে যেতে পারে। একই আশঙ্কার প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছে মাইক্রোসফ্টের এআই প্রধান মুস্তাফা সুলেমানের গলাতেও। তাঁর মতে, কোডিং থেকে শুরু করে আইন বা হিসাবরক্ষণের মতো ‘হোয়াইট কলার’ পেশার সিংহভাগই এখন এআই-এর কব্জায়।

সব মিলিয়ে প্রযুক্তির এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে এক নতুন লড়াইয়ের সামনে আইটি পেশাদাররা। একদিকে যখন ৯ কোটি চাকরি হারানোর আতঙ্ক তাড়া করছে, অন্যদিকে তখন ১৭ কোটি নতুনের হাতছানি। এই পরিস্থিতিতে কেবল কোড লেখাই নয়, বরং প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়াই এখন টিকে থাকার একমাত্র পথ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

আরও পড়ুন – ১৫০ জেলা বিচারক, সাত প্রাক্তন বিচারপতি: SIR-এ সোমবার থেকেই সহযোগিতা বিচার বিভাগের

_

 

_

 

_

 

_

 

_

Related articles

স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনে প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে অবিলম্বে গ্রেফতারের নির্দেশ আদালতের 

স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের মামলায় মূল অভিযুক্ত প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে অবিলম্বে গ্রেফতারের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। কেন এতদিনেও...

গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে বৈবাহিক জীবন শুরু আমিরের?

ফের সংবাদ শিরোনামে আমির খানকে ব্যক্তিগত জীবন! গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন নতুন নয় একেবারেই, কিন্তু...

কালীঘাটে অভিষেকের দরজায় ইডি, শিক্ষক নিয়োগ মামলায় ১৫ জুন তলব

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে নতুন করে তৎপরতা বাড়াল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। বুধবার বিকেলে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক...

CFL: বাগানের অনুশীলনে আইএসএল দলের ফুটবলার, অসন্তুষ্ট বাস্তব

বুধবার থেকে কলকাতা লিগের(CFL) প্রস্তুতি শুরু করল মোহবাগান(Mohun bagan)। কোচ বাস্তব রায়ের অধীনে অনুশীলন শুরু হল। মোহনবাগান অনুশীলনে...