Saturday, May 30, 2026

তৃণমূল ২৩০-এর বেশি: ভার্চুয়াল বৈঠকে শেষ সাত দিন ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের বার্তা অভিষেকের

Date:

Share post:

নির্বাচনের মাত্র সাতদিন আগে নির্বাচন কমিশন থেকে একের পর এক কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে যখন সব দিক থেকে চেপে ধরার চেষ্টা করছে বিজেপি, তখন ভার্চুয়াল বৈঠকে (virtual meeting) টার্গেট বেঁধে দিয়ে বিজেপির দুর্বলতা স্পষ্ট করে দিলেন তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। শেষ মুহূর্তে সব বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে তৃণমূলের জন্য লড়াইয়ের বার্তা দিয়ে সব নেতা কর্মীদের সতর্কও করে দিলেন তিনি।

এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯০ লক্ষ মানুষের নাম কেটেছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তাতেও দিল্লি, রাজস্থান, কলকাতার সমস্ত সমীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে, তৃণমূলই জিতছে। ভার্চুয়াল বৈঠকে দলের সব প্রার্থী, সাংসদ, প্রথম সারির নেতা, মুখপাত্র, বিএলএ-ওয়ান (BLA-1), কাউন্সিলর, জেলা পরিষদ সদস্যদের বার্তা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি জানান, ২০১১ সালে ২১১ আসনে জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এবার ২৩০ আসন জিতে উপহার দিতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee)। তার জন্য একজোট হয়ে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের (ECI) বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।

কর্মীদের মনোবল বাড়িয়ে অভিষেক ভার্চুয়াল বৈঠকে নির্দেশ দেন, সোশ্যাল মিডিয়ার কথায় পা দেবেন না। বিজেপি চক্রান্ত করে করতে পারে, কেউ পা দেবেন না। বিজেপি হওয়া তুলছে রাজ্যে ক্ষমতায় আসবে। ২০২১-এও বিজেপি তাই করেছিল তৃণমূলের মনোবল ভাঙর চেষ্টা করেছিল। তবে ২৬-এ আমরা ২১-কেও টপকে যাবো। আত্মবিশ্বাস রাখুন, তৃণমূলই জিতছে। বাংলার ৬০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গেলেও তৃণমূলকে হারানো সম্ভব নয়। অমিত শাহ (Amit Shah) যত হুমকি দেবে তত গণতান্ত্রিকভাবে মানুষের জয়ের তাগিদ বাড়বে।

আর সেই জয়ের জন্যই দলীয় কর্মীদের নির্বাচন পর্যন্ত ঐক্য যে সবথেক বেশি প্রয়োজন, তা স্পষ্ট করে দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাথমিকভাবে অভিষেকের নির্দেশ, মতনৈক্য, মনোমালিন্য গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বন্ধ করুন। লোকসভা হোক বা বিধানসভা, এমনকি পুরসভা এলাকাতেও একসঙ্গে কাজ করুন। যাঁরা পুরোনো কর্মী, তাঁদের মাঠে নামান। প্রার্থীরা গিয়ে পুরোনো কর্মীদের সঙ্গে কথা বলুন। নতুন ও পুরোনো সব নেতাদের নিয়ে মাঠে নামুন। নতুন বছরে দলকে উপহার দিতে প্রার্থী পছন্দ না হলেও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করুন।

আরও পড়ুন : অভিষেকের রোড শো-এ আবেগে ভাসল কোচবিহার, মদনমোহন মন্দিরে পুজো

সেই সঙ্গে অভিষেক সতর্ক করে দেন, এই নির্বাচনে প্রতিটি নেতা কর্মীর উপর নজর রাখছে দল। বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সতর্কবার্তা, সবার উপরে দল নজর রাখছে। ২০২৭ সালে পুরসভা নির্বাচন (Municipal election)। পুরসভা থেকে নিজের ওয়ার্ড থেকে লিড দিতে পারলে তবেই ২০২৭ সালে ভোটের টিকিট পাওয়া যাবে। নাহলে কোনও কলকাতার দাদা ধরেও লাভ হবে না। যে যায়গায় দল খারাপ ফল করবে, সেখানকার নেতাদের দলে থাকা না থাকা দল ঠিক করবে। যে জেলায় বা ব্লকে দল ভালো ফল করবে তাদেরকে দল উপহার দেবে।

Related articles

সোনারপুরে চোখে আঘাত অভিষেকের: নেত্রীর নির্দেশে ভর্তি হাসপাতালে

সোনারপুরে নিহত দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে হামলার মুখে পড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়...

সই বিভ্রাট নিয়ে কুণালের বাড়িতে সিআইডি, তদন্তে সহযোগিতা বিধায়কের

বিধানসভায় বিরোধী দলনেতাকে স্বীকৃতি নিয়ে নজিরবিহীন টানা পোড়েন। তৃণমূলের পরিষদীয় দলের বিধায়কদের সই না মেলা নিয়ে প্রতিদিন সিআইডি...

খুনের চেষ্টা! অভিষেকের উপর হামলায় সরব অখিলেশ, বিজেপির বিরুদ্ধে সরব খাড়গে

রাজ্যে বিজেপি সুশাসনের দাবি জানাচ্ছে প্রতিদিন। বিজেপি রাজ্য সভাপতি থেকে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করছেন রাজ্য়ে কোনও ভোট পরবর্তী হিংসার...

সোনারপুরে চূড়ান্ত অব্যবস্থা: মৃত দলীয় কর্মীর বাড়ির পথে বিজেপি কর্মীদের হেনস্থা অভিষেককে

ঘোষিত কর্মসূচিতে যাওয়ার আগেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আভাস দিয়েছিলেন সোনারপুরে অশান্তির পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। তা সত্ত্বেও ঘোষিত কর্মসূচি...