উত্তরপ্রদেশের আদলে এবার বাংলায় শুরু হতে চলেছে ‘জনতার দরবার’ (Janatar Darbar)। আগামী পয়লা জুন থেকে প্রতি সপ্তাহে একদিন বা দুদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) এই কর্মসূচির পরিকাঠামো তৈরি করতে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে। তবে শুধু মুখ্যমন্ত্রী (CM) একা নন, সঙ্গে একজন বা দুজন আধিকারিক থাকবেন বলেও জানা গেছে। প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা ইতিমধ্যেই সব পরিকল্পনা সেরে ফেলেছেন বলেই সুত্রের খবর।

দেশের মধ্যে দুই ডবল ইঞ্জিন রাজ্য উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশে আগে থেকেই ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচি করা হয়। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীও জনশুনানি নামে এক কর্মসূচি শুরু করেছেন। বাংলায় এবার বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু শুরু করতে চলেছেন ‘জনতার দরবার’। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এসে নিজেদের সমস্যা, অভিযোগ বা আবেদন জানাতে পারবেন। সেই অভিযোগ শুনে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হবে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। এদিন বিধানসভায় স্পিকার নির্বাচন পর্বে শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পুরনো অসৌজন্য ও তিক্ত তার ইতিহাস ভুলে সরকার ও বিরোধীপক্ষ মিলে রাজ্যের উন্নতিতে কাজ করবে বলেই তিনি আশাবাদী। বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন যাতে কোনভাবেই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি না হয় এবং বিরোধী রাও গঠনমূলক আলোচনা করেন সেই অনুরোধও করেন তিনি। পাশাপাশি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিজেপি অনেকটা এগিয়ে থাকলেও বিরোধী দলের প্রত্যেকের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে। অপরপক্ষে থাকা প্রতিনিধিরা মন্ত্রীদের এমনকি মুখ্যমন্ত্রীদের কোনও চিঠি দিলে যথাযথ নিয়ম মেনেই তার প্রাপ্তি স্বীকার করা হবে। পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে বিরোধীদের সেই গুরুত্ব দেওয়া হতো না বলে, এদিন খোঁচাও দেন শুভেন্দু। পাশাপাশি কোনও বিধায়ক যেন শারীরিক হেনস্থার শিকার না হন বা বিরোধী দলনেতাকে এগারো মাসের জন্য সাসপেন্ড হতে না হয় সেদিকেও সকলকে খেয়াল রাখতে হবে বলে বার্তা দিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।

–

–

–

–

–

–
