Sunday, June 21, 2026

দলটা উঠে যাবে: বহিষ্কার হতেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে গুচ্ছ অভিযোগ ঋতব্রত-সন্দীপনের

Date:

Share post:

সইজাল-কাণ্ডে দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার পরেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে গুচ্ছ অভিযোগ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) ও সন্দীপন সাহার‌ (Sandipan Saha)। তীব্র কটাক্ষ করে করে দুজনেরই মত, ”তৃণমূল দলটা উঠে যাবে।”

সইজাল-কাণ্ডে ২ বিধায়কের নাম ফাঁস করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তারপরেই তড়িঘড়ি দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করে তৃণমূল (TMC)। এই বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে (Rathindra Basu)। এরপরেই দলের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা স্পিকারকে গোটা বিষয়টা বলেছি। ক্যামাক স্ট্রিটের লোকেরাই সই তৃণমূলের সংবিধানের নাম শপথ করিনি আমি। তাই নৈতিক কারণেই স্পিকারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি কারণ স্পিকার কোনও দলের নন।”

সন্দীপনের কথায়, “দলে প্রতিবাদ করার পরিবেশ নেই। দল থাকবে কিনা সেই প্রশ্ন আসছে।  দম বন্ধ করা পরিবেশ আলোচনার জায়গা নেই। এত দুর্নীতির পরেও কেন এই সই জালিয়াতি? অনৈতিক কাজ দল করছে। আর যারা নৈতিকতার কাজ করল, একটা অনৈতিক বিষয়কে, অনিয়মের বিষয়কে সামনে নিয়ে এল, তাদেরকে যদি দল বহিস্কার বা সাসপেন্ড করে, তারমানে ভাবুন দল অনৈতিকতাকেই সমর্থন করছে। আর যারা নৈতিক কাজ করবে, দল তাদের সঙ্গে থাকবে না। একটা অ্যাটেনডেন্স খাতাতে সই করিয়ে সেটাকে রেজুলেশন-এ পরিবর্তন করে সেটা মাননীয় অধ্যক্ষর কাছে জমা দেওয়া হবে, এটা সম্পর্ণ আইন বহির্ভূত। এরকম বিরল ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। আমরা বিধানসভার সদস্য হিসেবে কোথাও আমাদের মনে হয়েছে যে এই অনিয়মের অংশীদারি হতে চাই না বলেই আমরা এই বিষয়টা তুলে ধরেছি। দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায় না। দলের মধ্যে কোনও কথা বলা যায় না। আগামিদিনে এই নিয়ে তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে সাহায্য করব সম্পূর্ণ ভাবে। ওই দলটা আর থাকবে না। দল উঠে যাবে।”

দলবদলু ঋতব্রত (Ritabrata Banerjee) বলেন, ”একটা পার্টি নির্বাচনে হেরে গেছে কিন্তু হেরে গিয়ে বলছে আমরা হারিনি। আমরা জিতেছি। তাহলে একটা পার্টি যদি হেরে গিয়ে যেতে তাহলে আমরা যারা জিতেছি তাহলে আমরা এবার জিতলাম কে করে। রেজুলেশন হয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানানো, পরিষদের দল নিয়ে কোনও রেজুলেশন হয়নি। তৃণমূলের ভিতর থেকে প্রতিবাদ করার সুযোগ খুব কম। বিধানসভাতে আমি পুষ্পাকে কেন গার্ড করা হচ্ছে সেই নিয়ে অনেক কথা বলেছিলাম। আজকের পর হয়তো উলুবেরিয়ার সরকার বাহিনীকে লেলিয়ে দেওয়া হবে আমার উপর। পুলক রায় পুরসভার চেয়ারম্যান অভয় দাস, পার্টি ব্লকের সভাপতি আকবর এই তিনজন মিলে হচ্ছে উলুবেড়িয়া সরকার। আমাকে ওখানে মানুষ বলেছেন, আপনার জয় খুশি হয়েছি কিন্তু উলুবেরিয়া সরকারের পতনে আরো খুশি হয়েছি। উলুবেরিয়ার দুর্নীতির পুরো তদন্ত চাই। বিজ্ঞান বলছে এই দল থাকতে পারে না।”

Related articles

ভাঙা পাঁজর-ফুসফুসে চোট নিয়ে হাসপাতালের বেড থেকে নিট পরীক্ষাকেন্দ্রে সৃষ্টি 

ভাঙা পাঁজর, ফুসফুসে গুরুতর চোট, আর তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা— কোনও কিছুই দমাতে পারল না তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে। চিকিৎসকদের...

‘টোটাল ফুটবল’, উৎপল সিনহার কলম

টোটাল ফুটবলের মৃত্যু নেই। রূপকথা নয়, এটা একটা দর্শন। যতদূর জানা যায় এই দর্শনের স্রষ্টা রাইনাস মিশেল। ১৯৭৪...

উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে! ‘নাম-বিভ্রাট’ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে কী অনুরোধ কুণালের

শহরের সুপরিচিত ‘সোহরাবর্দি অ্যাভিনিউ’ (Suhrawardy Avenue)-এর নাম বদলে ‘গোপাল মুখার্জি রোড’ (Gopal Mukherjee Road) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা...

দিল্লি বিমানবন্দরে ৪৫ মিনিট আটকে রইল প্রধানমন্ত্রীর কনভয়, কিন্তু কেন?

ভিভিআইপি সংস্কৃতির চিরাচরিত প্রথা ভেঙে পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কলকাতা সফর শেষ করে...