প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) কলকাতা সফর ও আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে সামনে রেখে শহরজুড়ে (Kolkata) শুরু হল ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’ অভিযান। সোমবার কলকাতা পুরসভায় কর্মসূচির উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, শুধু পরিচ্ছন্নতা নয়, কলকাতার পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্যও অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত রাজ্য সরকার। পুরভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একটি মহানগরের পরিচয় নির্ভর করে তার স্বচ্ছতা, নাগরিক পরিষেবা, সৌন্দর্যায়ন ও পরিবেশের উপর। সেই লক্ষ্যেই ১৫ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত কলকাতা-সহ রাজ্যের সমস্ত পুরসভা ও পুরনিগম এলাকায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা এবং সবুজায়ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে নগরোন্নয়ন ও পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির আওতায় রাস্তা, বাজার, ধর্মীয় স্থান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খালি জমি ও জলাশয় পরিষ্কার করার পাশাপাশি শেষ দিনে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কলকাতা পুরসভার অধীনে ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’ চালুর ঘোষণাও করেন তিনি। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যে ১০টি পুরসভা ও ৩১৩টি ওয়ার্ডে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ১৮৮০টি অভিযোগের মধ্যে ৯৫ শতাংশের নিষ্পত্তি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় কলকাতার প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন। বিদায়ী মেয়রের পদত্যাগের পর আইনি প্রক্রিয়া মেনেই পুরসভায় প্রশাসক বসানো হয়েছে বলে জানান তিনি। আগামী ছ’মাসের মধ্যে নির্বাচিত বোর্ডের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার লক্ষ্যের কথাও উল্লেখ করেন। আরও পড়ুন: যোগ দিবসকে ‘উৎসব’-এ পরিণত করার ডাক মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতার উন্নয়নের জন্য একাধিক আর্থিক প্যাকেজের ইঙ্গিত দিয়ে শুভেন্দু বলেন, অতিরিক্ত উন্নয়নমূলক প্রকল্পের জন্য ৬০০ কোটি টাকা, অমৃত যোজনার আওতায় আরও ৫০০ কোটি টাকা এবং নমামি গঙ্গা প্রকল্পে আরও ৫০০ কোটি টাকার কাজের সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রস্তাব এলেই সেই অর্থ বরাদ্দ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। বর্ষার আগে জল জমার সমস্যা মোকাবিলায় নাগরিকদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “কলকাতার মতো শহরে ২৪ ঘণ্টা পরিষেবা দিতে হয়। শুধু আধিকারিক বা কর্মীদের উপর নির্ভর করলে হবে না। সচেতন নাগরিকদেরও এগিয়ে আসতে হবে।” ২০ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা সফরের আগে শহরকে পরিচ্ছন্ন ও সুসজ্জিত করে তোলার লক্ষ্যে এই অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছে প্রশাসন।

–

–

–

–

–
–
–
