নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বিমানবন্দরের রানওয়ে লাগোয়া বহু পুরোনো মসজিদ স্থানান্তরের কাজ শুরু করা হতে পারে শনিবার থেকে। উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসকের দফতরে বিধায়ক ও মসজিদ কমিটির সদস্যদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিমানবন্দর কর্তপক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ পরিদর্শক দল ওই মসজিদ পরিদর্শন করে। 

জানা যাচ্ছে, প্রায় ১৩৬ বছরের পুরনো গৌরীপুর জামে এই মসজিদ 'বাঁকড়া মসজিদ' নামে পরিচিত। মনে করা হচ্ছে বিমানবন্দরের একটি রানওয়ের এত কাছে এই মসজিদ বিমানের টেক-অফ ও অবতরণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বৃষ্টি হলে বা কুয়াশায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার সময় পাইলটের পক্ষে এই মসজিদ ভিজ্যুয়াল ইলিউশন তৈরি করে যার ফলে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। শুধু তাই নয়, এই মসজিদের ফলে বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ প্রায় ৩০ বছর ধরে আটকে আছে। ১৯২৪ সালে কলকাতা বিমানবন্দর চালু হয় এবং ১৯৬২ সালে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য জমি অধিগ্রহণ হয়। সেই সময়ে মসজিদের পাশে ছিল যশোর রোড। বিমানবন্দরের জন্য যশোর রোড ঘুরিয়ে দেওয়া দেওয়া হলেও মসজিদটি বিমানবন্দরের পাঁচিলের ভিতর থেকে যায়। জমিটি প্রাচীন ওয়াকফ সম্পত্তি হলেও ১৯৬২ সালে এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য জমিটি অধিগ্রহণ করে। 

উল্লেখ্য, এই মসজিদ ভাঙার কাজ শুরু হলে সাধারণ মানুষ সেটা বুঝতেও পারবে না কারণ সাধারণ মানুষের পক্ষে ওই মসজিদ একেবারেই দুর্ভেদ্য। যারা নমাজ পড়তে চান আধার কার্ড যাচাইয়ের পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিশেষ বাসে করে তাঁদের মসজিদ পর্যন্ত নিয়ে যায় প্রতিদিন। সূত্রের খবর, ভাঙার যন্ত্রপাতি বিমানবন্দরের নিজস্ব। সেগুলি পুরোনো টার্মিনাস কার্গো বিভাগ থেকে রানওয়ে হয়ে মসজিদ পর্যন্ত যাতায়াত করবে।