তৃণমূলের আর্থিক লেনদেন ঘিরে নতুন করে আবার শুরু হয়েছে তদন্ত। আদালতের নির্দেশে তিনটি অ্যাকাউন্ট (Account) ব্যবহারের সুযোগ মিললেও, তার মধ্যেই আরও ১২টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লেনদেন স্থগিত করেছে রাজ্য পুলিশ। তদন্তকারীদের মতে, অর্থের উৎস ও লেনদেনের গতিপথ খতিয়ে দেখতেই এই পদক্ষেপ।

আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে নথিপত্র (Documents) খতিয়ে দেখতে গিয়ে একের পর এক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পুলিশের নজরে এসেছে। সেই কারণেই নতুন করে আরও ১২টি অ্যাকাউন্টে লেনদেন আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কগুলিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ পাঠানো হয়েছে এবং ওই সব অ্যাকাউন্টের সম্পূর্ণ আর্থিক তথ্য, জমা-উত্তোলনের বিবরণ ও লেনদেনের ইতিহাস তদন্তকারীদের হাতে তুলে দিতে বলা হয়েছে। এই পদক্ষেপের পর মামলায় নজরদারির আওতায় থাকা অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৫। এবং সব মিলিয়ে ১,০০০ কোটি টাকারও বেশি টাকা আছে  এই ১৫টি অ্যাকাউন্টে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই অ্যাকাউন্টগুলিতে বিপুল অঙ্কের অর্থের লেনদেন হয়েছে, যার উৎস ও ব্যবহার এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, আগে স্থগিত হওয়া তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল। আদালত দৈনন্দিন সাংগঠনিক কাজ যাতে ব্যাহত না হয়, সেই কারণেই নির্দিষ্ট কিছু শর্তে অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। তবে সেই ছাড়ের সঙ্গে কড়া নজরদারির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে (Justice Subrata Talukdar) বিশেষ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে আদালত জানিয়েছে, প্রতিটি আর্থিক লেনদেনের হিসাব তাঁর কাছে জমা দিতে হবে এবং তাঁর অনুমোদন ছাড়া কোনও ব্যয় কার্যকর হবে না। অন্যদিকে, এই মামলার তদন্ত এখন শুধু রাজ্য পুলিশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের উৎস ও প্রকৃতি নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাও (Central Investigative Agency) সক্রিয় হয়েছে।