দার্জিলিং (Darjeeling) জেলার দুধিয়ায় নবনির্মিত বেইলি ব্রিজের (Bailey bridge) ভার্চুয়াল উদ্বোধন (Virtual Inauguration) করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Chief Minister Suvendu Adhikari)। একইসঙ্গে পাহাড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সেপ্টেম্বর মাস থেকেই ৫০ সদস্যের একটি স্থায়ী সিভিল ডিফেন্স বাহিনী (Civil Defence Force) মোতায়েনের ঘোষণা করেন তিনি। আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম সহ এই বিশেষ বাহিনী পাহাড়ে ভূমিধস, বন্যা সহ বিভিন্ন দুর্যোগের সময় দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণকাজে অংশ নেবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
জুন মাসে প্রবল বৃষ্টি জেরে বালাসন নদীর (Balason River) জলস্তর বেড়ে দুধিয়ার পুরনো সেতু ভেঙে পড়ে। ফলে শিলিগুড়ি-মিরিকের (Siliguri-Mirik) গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক ও পণ্যবাহী যানবাহনকে দীর্ঘদিন বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হয়। সেই পরিস্থিতি কাটাতে সেনাবাহিনী, পূর্ত দফতর এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে মাত্র ২০ দিনের মধ্যে নতুন বেইলি ব্রিজ নির্মাণের কাজ শেষ হয়। সেনাবাহিনীর দ্রুত সহযোগিতায় রেকর্ড সময়ে বেইলি ব্রিজ নির্মাণের জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অতীতের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের অভিজ্ঞতা থেকেই পাহাড়ে দুর্যোগ মোকাবিলার পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে প্রাক্তন সেনাকর্মীদের নিয়ে বিশেষ সিভিল ডিফেন্স ইউনিট (Civil Defence Unit) গঠন করা হবে। পরবর্তীতে অগ্নিবীরদেরও এই বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম সংগ্রহের কাজও শুরু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, রাজ্যে মোট তিনটি বিশেষ উদ্ধারকারী ইউনিট গড়ে তোলা হবে। এর মধ্যে ১০০ সদস্যের একটি ইউনিট কলকাতায়, ৫০ সদস্যের একটি সাগরদ্বীপে এবং আরও একটি দার্জিলিং-কালিম্পং-খরসাং পাহাড়ি এলাকায় মোতায়েন থাকবে। পুলিশ, দমকল এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে এই বাহিনী উদ্ধার ও ত্রাণকাজ পরিচালনা করবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, দুধিয়ায় ৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি স্থায়ী কংক্রিটের সেতু নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। ২০২৭ সালের মার্চ মাসের মধ্যে সেই প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। স্থায়ী সেতু চালু হলে পাহাড়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও মজবুত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
















