ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের (India-Bangladesh border) নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Union Home Minister Amit Shah)। এই সফরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Chief Minister Suvendu Adhikari) সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। উত্তরকন্যায় (Uttarkanya) অনুষ্ঠিত বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ রোধ এবং শিলিগুড়ি করিডরের কৌশলগত গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। পরে শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফুলবাড়ির জুমাগাছ সীমান্ত চৌকিতে পৌঁছে বিএসএফের (BSF) শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। পাশাপাশি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রায় ৭৭ কোটি টাকার একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
শুক্রবার রাতে বিশেষ বিমানে বাগডোগরা বিমানবন্দরে (Bagdogra Airport) পৌঁছন অমিত শাহ। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরদিন সকাল থেকেই সীমান্ত এলাকায় একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। জুমাগাছ সীমান্ত চৌকিতে বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি সীমান্তে থাকা আধিকারিকদের কাছ থেকে বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নজরদারি এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
জুমাগাছ সীমান্ত চৌকির ঠিক বিপরীতেই রয়েছে বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর (Banglabandha Land Port in Panchagarh District)। শিলিগুড়ি করিডর (Siliguri Corridor) বা চিকেন'স নেক এর কাছাকাছি হওয়ায় এই অঞ্চল দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। সেই কারণেই সীমান্তে নজরদারি আরও শক্তিশালী করতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার উপর জোর দিয়েছে কেন্দ্র। এদিন জুমাগাছ থেকেই ১৪টি সীমান্ত চৌকিতে স্মার্ট ফেন্সিং (Smart Fencing) ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন অমিত শাহ। এই ব্যবস্থায় কাঁটাতারে কোনও ধরনের স্পর্শ বা নড়াচড়া হলেই সঙ্গে সঙ্গে বিএসএফের নিয়ন্ত্রণকক্ষে সতর্কবার্তা পৌঁছে যাবে, ফলে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রুখতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
উত্তরকন্যায় অনুষ্ঠিত বৈঠকেও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক বিষয় গুরুত্ব পায়। অনুপ্রবেশ রোধ, ভুয়ো পরিচয়পত্র ব্যবহার ঠেকানো এবং জন্ম-মৃত্যুর নথির ডিজিটাইজেশন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে এখনও প্রায় ৫০০ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ বাকি রয়েছে। সেই কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি সীমান্তে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার লক্ষ্যেই কেন্দ্র এগোচ্ছে বলে প্রশাসনিক মহলের মত।
















