স্বাস্থ্যভবনে (Swasthya Bhawan) লাইভ মনিটরিং সিস্টেম পরিদর্শনে গিয়ে বৃহস্পতিবার রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতিতে একগুচ্ছ ঘোষণা করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। হাসপাতালের দালাল চক্র রুখতে কড়া নজরদারির পাশাপাশি দুর্ঘটনা বা বিপর্যয় পরিস্থিতির সামাল দিতে আড়াইশো রোগীকে এক মিনিটে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করার ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রমা কেয়ার সেন্টার (Trauma Care Centre) চালুর পরিকল্পনা রাজ্যের। পাশাপাশি নিউটাউনে ২০০০ শয্যাবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতালের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর।

রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল ফেরাতে প্রথম থেকেই বিশেষ নজর বিজেপি সরকারের। মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, হাসপাতালে দালালরাজ রুখতে যেমন কন্ট্রোলরুমে মনিটরিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক তেমনই রোগী পরিষেবার দিকেও যথেষ্ট নজর দিতে হবে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীর আত্মীয়দের থাকার সুবিধার জন্য রাত্রিকালীন আশ্রয়স্থল তৈরি থেকে এসএসকেএম হাসপাতালের (SSKM Hospital) আধুনিকীকরণের দিকেও জোর দেন তিনি। জানান, দুর্গাপুজোর আগেই আরও ২৫০টি বেড বাড়ানো হবে। পিজি হাসপাতালে ICU বেডের সংখ্যা ১১২ থেকে বাড়িয়ে অন্তত ২০০ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বার্ন ইউনিটের মানোন্নয়নে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন চিকিৎসকদের যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্যভবন পরিদর্শন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, 'নিউটাউনে আদানি গ্রুপের সহযোগিতায় একটি ২০০০ বেডের আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল তৈরি হতে চলেছে। এই হাসপাতালের চুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ভূমিপুজো হবে। ১০০০ বেড বরাদ্দ থাকবে গরিব জন্য। বিনামূল্যে সেখানে পরিষেবা মিলবে।'

সরকারি জমির উপর যে সমস্ত বেসরকারি হাসপাতাল তৈরি হয়েছে চুক্তি অনুযায়ী তাদের মোট বেডের অন্তত ১৫ শতাংশ ফ্রি বেড হিসেবে থাকা দরকার। এতদিন সেটা মানা হয়নি। তবে বর্তমান সরকারের কড়া মনোভাবের কারণেই যে অন্তত ১০ শতাংশ শয্যা গরিবদের জন্য দিতে রাজি হয়েছে বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, এ কথাও স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী।

বিগত সরকারের নীতির সমালোচনা করে এদিন বিজেপি সরকারের তরফ থেকে হাসপাতালে রোগীদের জন্য দৈনিক খাবারের বরাদ্দ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কথাও মনে করিয়ে দেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, স্বাস্থ্য ভবনের মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে দালাল চক্র আটকানো সম্ভব হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। রোগী, রোগীর পরিবার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য আলাদা আলাদা ব্যাজের ভাবনা প্রকৃত অর্থে দালালদের চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে।