ধর্ষণ খুনের মতো নৃশংস ঘটনার নেপথ্যে থাকা সামাজিক দূষণ রোধে রাজ্যজুড়ে বেআইনি মাদকচক্র সমূলে উপড়ে ফেলার ডাক বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর। শনিবার বারুইপুরে সূর্যপুর এলাকায় পুলিশ আউট পোস্টের উদ্বোধন করে শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) বলেন, “যে ঘটনা ঘটেছে, তার পিছনে কার্য ও কারণ রয়েছে। আমার মনে হয় এই জঘন্য অপরাধের পিছনে বেআইনি মদের ঠেক, বেআইনি গাঁজা, চরস ও মাদকই একটা বড় কারণ।” এরপরই রাজ্য পুলিশকে (WB Police) স্পেশাল ড্রাইভ চালানোর নির্দেশ দেন তিনি।
বারুইপুরের ঘটনায় যেভাবে রাজ্য পুলিশ -এসটিএফ কাজ করেছে তার প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'প্রতিদিন রেল স্টেশন ও বাস স্ট্যান্ডে রেকি করে মাদক ধরছে প্রশাসন।আগামী দু-সপ্তাহ গোটা রাজ্য জুড়ে স্পেশাল ড্রাইভ বা বিশেষ অভিযান চালাতে হবে। ব্যাটালিয়নে থাকা যে সমস্ত পুলিশ কর্মীরা সরাসরি থানার দৈনন্দিন কাজে যুক্ত থাকেন না, তাঁদের এই বিশেষ অভিযানে নামানো হোক।' সিও-দেরও এক একটি জেলার দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, রুরাল এলাকা বা গাঁ-গঞ্জে যেখানেই এই ধরনের বেআইনি মদের ঠেক বা গাঁজা-চরসের কারবার চলছে, তা সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলতে হবে। এই সামাজিক দূষণ থেকে আমাদের পরিবেশ ও সমাজকে বাঁচাতে হবে। সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু বলেন, কোনও ধরনের বেআইনি মাদকচক্র বা ঠেকের হদিশ পেলে অবিলম্বে প্রশাসনকে জানান।
গণপিটুনিতে ইন্দ্রজিতের মৃত্যুর প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "নাম পরিচয় দেখে খুন করা হয়েছে। নির্বাচনে যারা হেরেছে, তাদের উস্কানিতেই এই ঘটনা। এর পিছনে উগ্রপন্থী, মৌলবাদী বা অতিবামপন্থীদের বড়সড় ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।” রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান সাফ জানান, হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে মেরে ফেলার মতো জঘন্য অপরাধের সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের সঙ্গে কোনও ধরনের আপোষ করা হবে না। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে। ইন্দ্রজিতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করার পাশাপাশি নিহতের দাদা বাপি মণ্ডলকে চাকরি দিয়েছে রাজ্য সরকার। সিভিক ভলেন্টিয়ার হিসেবে সূর্যপুর পুলিশ ফাঁড়িতেই তাঁর পোস্টিং হবে। ইন্দ্রজিতের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িও সারিয়ে দেওয়া হয়েছে। খুশি তাঁর পরিবারের সদস্যরা। বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবার যেভাবে মুখ্যমন্ত্রীর উপর একটা রেখেছে তাতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন শুভেন্দু। এদিন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফুলতলায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অশান্তিতে নিহত প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের পরিবারকেও ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্যের ঘোষণাও করা হয়েছে। এদিন সূর্যপুর ফাঁড়ির পুলিশ আধিকারিকদের খতিয়ান দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন অপরাধ দমনে পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু কোনওভাবেই কোনও নিরীহ মানুষ যাতে হেনস্থার শিকার না হন, সেদিকটাও দেখা গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়ে আইজি কঙ্কর বাড়ুইকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
















