জঙ্গল সাফ করার চোরা প্রবণতা, পরিবেশ ধ্বংস করার মানসিকতায় রাজ্য আজ কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত হয়েছে - অরণ্য সপ্তাহের (Aranya Saptaha) সূচনা লগ্নে সল্টলেকের বনবিতান থেকে নাম না করে পূর্বতন সরকারকে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার অরণ্য রথের শুভ সূচনা করার পাশাপাশি পড়ুয়াদের হাতে চারাগাছ তুলে দেন তিনি। ১৪ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Govt of West Bengal) আয়োজিত 'অরণ্য সপ্তাহ' উদযাপনের উদ্বোধনে নিজে হাতে গাছ লাগান রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। এরপরই বনাঞ্চলের ক্ষয় ও পরিবেশের প্রতি অবহেলা নিয়ে বিগত সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। স্পষ্ট জানান, চলতি বছরের মধ্যে দশ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হবে। সাংসদ - বিধায়কদের গাছ লাগানোর টার্গেটও বেধে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যের বনদফতরের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি ছিলেন বিধাননগরের বিধায়ক তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাও, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল- সহ একাধিক প্রশাসনিক কর্তারা। এদিন দেশের পরিবেশ ও জলবায়ু রক্ষায় দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) নানা উদ্যোগের কথা স্মরণ করিয়ে 'একটি গাছ মায়ের নামে' অভিযানের প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীর প্রতিদিন গাছ লাগানোর অভ্যাসের উদাহরণ দিয়ে বলেন, এটা সত্যিই অভাবনীয় বিপ্লব। যেভাবে জঙ্গল সাফ করে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) জানান, 'বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন করার সময় সবুজানের নিয়ম থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। হেলিকপ্টারে যাতায়াত করার সময় নীচের দিকে তাকালে শিউরে উঠতে হয়। ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, তরাই, ডুয়ার্স, জলদাপাড়ার সবুজ বনভূমি আজ ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়েছে।' দুষ্কৃতীরা গাছ কেটে সাফ করে দিলেও পূর্বতন সরকার কিছু করেনি বলে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী।
অরণ্য সপ্তাহের শুরুতেই চলতি বছরের শেষে ১০ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য মাত্রা বেঁধে দেওয়ার পাশাপাশি সাংসদ-বিধায়ক এমনকি পঞ্চায়েত সদস্যদের গাছ লাগানোর টার্গেটও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি রথের মেলা থেকে গাছ বণ্টনের বার্তা থেকে শুরু করে বৃক্ষরোপণে সঠিক মনিটারিং, পুলিশ বোর্ডের মাধ্যমে বন কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত একগুচ্ছ ঘোষণা করেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। সকলের সহযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গের বনদফতরকে (Forest Department) দেশের অন্যতম সেরা দফতরে পরিণত করার বার্তাও দিয়েছেন শুভেন্দু।
একনজরে দেখে নেওয়া যাক মুখ্যমন্ত্রী আজ কী কী ঘোষণা করলেন -
• চলতি বছরের মধ্যে বাংলায় ১০ কোটি গাছ লাগাতে হবে।
• রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে তথ্যসংস্কৃতি দফতর যে ৭০টি বড় মেলা প্রাঙ্গণে সরকারি পরিষেবার শিবিরের আয়োজন করেছে সেখান থেকে ফলের গাছ বিতরণ করতে হবে।
• বজ্রপাত রুখতে নারকেল গাছ বিতরণের নির্দেশ।
• ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের মত রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোও এ বছর রাজ্যে দশ লক্ষ গাছ লাগাবে।
• বৃক্ষরোপনের পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের সঠিক দায়িত্ব নিতে হবে।
• কমপক্ষে দু'বছর প্রতি গাছের সঠিক মনিটরিং করার নির্দেশ।
• বন্যপ্রাণী ও হাতি সংরক্ষণে ওড়িশা ও ছত্তিশগড়ের মডেল অনুসরণ করার পরামর্শ।
• সাংসদরা নিজেদের এলাকায় অন্তত ৭ লক্ষ, বিধায়করা ১ লক্ষ, পঞ্চায়েতের প্রতি সদস্যকে এক হাজার করে গাছ লাগাতে হবে।
• জঙ্গল থেকে বেআইনি গাছ কাটা ও অবৈধ কাঠের মিলে রমরমা বন্ধ করতে পুলিশ বন দফতর যৌথ অভিযানে নামবে।
• পুলিশ বোর্ডের মাধ্যমে বনদফতরের কর্মী নিয়োগ হবে।
• কর্মরত অবস্থায় মৃত বনকর্মীর পরিবারকে সব রকমের সহায়তা দেবে রাজ্য সরকার।
















