প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের (Former Chief Minister Buddhadeb Bhattacharjee) মৃত্যুর পরে তৃণমূল জমানায় তাঁর পাম অ্যাভিনিউয়ের (On Palm Avenue) বাসভবনের নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছিল। প্রায় এক বছর পরে সেই নিরাপত্তা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Chief Minister Suvendu Adhikari)। তাঁর উদ্যোগে বুদ্ধ-জায়া মীরা ভট্টাচার্যের (Mira Bhattacharya) জন্য ফের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মতভেদকে পাশে রেখে এই মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে সৌজন্য ও মর্যাদা রক্ষার বার্তা হিসেবেই দেখছে বিভিন্ন মহল।
২০২৪-এর ৮ অগাস্ট মারা যান বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তাঁর মৃত্যুর পর থেকে পাম অ্যাভিনিউয়ের ৫৯-এ নম্বর ফ্ল্যাটেই রয়েছেন মীরা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বেঁচে থাকতে যেমন ছিল তাঁদের অনাড়ম্বর জীবনযাপন, আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বহুবার অন্যত্র থাকার সুযোগ এলেও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য নিজের এই ছোট্ট ফ্ল্যাট ছেড়ে যেতে চাননি কখনও। তাঁর মৃত্যুর পরও সেই সিদ্ধান্তকেই সম্মান জানিয়ে এই বাড়িতেই থেকে গিয়েছেন মীরা ভট্টাচার্য।
রাজ্যে পালাবদলের পরে বাংলার বিজেপি সরকারের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের (Buddhadev Bhattacharya) স্ত্রী মীরা। তাঁর কথায়, "মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন সরকার যেভাবে কাজ করেছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তারা এত দ্রুত তাদের প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়ন করছে, তাতে আমি খুশি।" একইসঙ্গে বুদ্ধ-জায়া বলেন, সিঙ্গুরের (Singur) মানুষ এখন বুঝতে পারছেন তাঁদের ভুল বোঝানো হয়েছিল। সিঙ্গুরে অটোমোবাইল শিল্প (পড়ুন টাটাদের কারখানা) স্থাপন হলে বাংলার অর্থনীতির চিত্রটাই বদলে যেত। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে মীরা বলেন, প্রতিশ্রুতি পূরণের সদিচ্ছার প্রমাণ হিসেবে নারীদের জন্য বিনামূল্যে বাস পরিষেবার মতো জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে রাজ্য। তিনি বলেন, "নতুন সরকার নির্বাচনের আগে করা প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়নের জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। রাজনৈতিক দলমত নির্বিশেষে, যিনি রাজ্যের কল্যাণে কাজ করেন, তিনি আমাদের শ্রদ্ধার যোগ্য।"
এবার প্রতি-সম্মান জানালেন শুভেন্দুও। সরকারি দায়িত্বের শত ব্যস্ততার মধ্যেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেছেন তিনি। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও ব্যক্তিগত মর্যাদা ও সম্মানকেই সবার উপরে রেখেছেন তিনি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে নিরাপত্তা ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ রাজনৈতিক সৌজন্যের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
















