রথযাত্রার সূচনায় বৃহস্পতিবার কলকাতার ইসকন (ISCON , Kolkata) মন্দিরে উপস্থিত হন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। বিগ্রহ পরিদর্শনের পর ভক্তি ভরে জগন্নাথ দেবের আরতি করতে দেখা যায় তাঁকে। রথের রশিতে টান দেওয়ার আগে প্রথমে যাত্রাপথে পদ্মফুলের পাপড়ি ছড়িয়ে দেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তারপর প্রথা মেনে ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করেন। এদিন ইসকনের বৈষ্ণব ভাবধারা প্রচার ও প্রসারের প্রশংসা করার পাশাপাশি মিড-ডে মিল বিতর্ক (Mid Day Meal Controversy) নিয়েও মুখ খোলেন শুভেন্দু।

বিধানসভা নির্বাচনের তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে রাজ্যে এখন বিজেপির সরকার। ক্ষমতায় এসে একাধিক নীতিগত পরিবর্তন করতে দেখা গেছে মুখ্যমন্ত্রীকে। নতুন সরকার ইসকনকে যে দায়িত্ব দিয়েছে তা নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। শুভেন্দু এদিন জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং ইসকন যৌথভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ শুরু করেছে। তাঁর বক্তব্য, দেশের একাধিক বড় শহরে ইসকন বহুদিন ধরেই এই ধরনের সামাজিক উদ্যোগ সফলভাবে পরিচালনা করছে। রথ যাত্রার মতো ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের সূচনায় পূর্বতন তৃণমূল সরকারের মিড ডে মিল দুর্নীতির কথা তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, 'গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে মিড-ডে মিল নিয়ে যে ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিশুদের খাবার নিয়ে অনিয়ম করা পাপের সমান।' এরপরই ইসকনকে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়া এবং মেনু থেকে ডিম বাদ পড়া নিয়ে সাম্প্রতিককালে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে তার জবাব দেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকারের লক্ষ্য শুধু খাবার দেওয়া নয়, মিড ডে মিলে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া। তাঁর কথায়, এ রাজ্যের স্কুলের মিড ডে মিলের উপর সচ্ছল পরিবার খুব একটা ভরসা করে না। যারা এই খাবার গ্রহণ করে তারা মূলত মধ্যবিত্ত নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবার থেকে উঠে আসেন। সেই কারণে ভালো পুষ্টিকর খাবার দেওয়াটা সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনে ইসকন এই দায়িত্ব পালন করে আমাদের শিশুদের কাছে উন্নত মানের পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেবে।