রথযাত্রা (Rathayatra) মানেই বাংলায় উৎসবের সূচনা। কথাতেই আছে রথ টানলে নাকি দুর্গা আসে, তাই এই উৎসবের মধ্য দিয়েই মহোৎসবের কাউন্ট ডাউন শুরু হয়ে গেল বাংলায়। বৃহস্পতিবার রথের রশিতে টান দিয়ে ভক্তিরস আর সমাজকল্যাণের ভাবনাকে এক সুরে মিলিয়ে দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। জগন্নাথদেব তাঁর ভাই-বোনকে নিয়ে মাসির বাড়ি যাবে, তাই রথের যাত্রাপথ ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করার নিয়ম শাস্ত্রে বর্ণিত। প্রথা মেনে অক্ষরে অক্ষরে সবটাই পালন করলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। কলকাতার ইসকন (ISCON, Kolkata) আয়োজিত রথযাত্রায় (Rathayatra) দেবতার আরতির পর তার মুখে শোনা গেল গীতার বাণী, কণ্ঠে ধরা দিল ভক্তির সুর।

বৃষ্টিভেজা আবহাওয়ায় লক্ষ্মীবারে রাজ্য তথা দেশ জুড়ে রথযাত্রা উৎসব পালিত হচ্ছে। বেলা বারোটা নাগাদ ইসকনের রথযাত্রায় উপস্থিত হন শুভেন্দু। প্রথমে জগন্নাথদেবের বিগ্রহের সামনে নতমস্তকে প্রণাম সারেন। বেশ কিছুক্ষণ ভক্তি ভরে আরতি করে পুজো নিবেদন করেন। তারপর চলে যান শ্রীল প্রভুপাদের কক্ষে। এই কক্ষটিকে যাতে হেরিটেজ ঘোষণা করা হয়, তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের আবেদন করবেন বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের উন্নতির পাশাপাশি আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের বার্তাও দেন তিনি।বলেন, ইসকনের এই রথযাত্রায় অংশগ্রহণ করা সৌভাগ্যের বিষয়। গীতার বাণী উদ্ধৃত করে সকলের ভালো থাকার প্রার্থনা জানান শুভেন্দু।
রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান এদিন সম্পূর্ণ অন্য মেজাজে ধরা দিয়েছেন। রথ দর্শনের পর বিগ্রহে মালা দিয়ে দু’কলি গৌড়ীয় সঙ্গীতও গেয়ে শোনান। তারপর প্রথমে পদ্ম ফুলের পাপড়ি ছড়িয়ে দেন রথের যাত্রাপথে।

প্রথা মেনে সোনার ঝাড়ু দিয়ে সেই রাস্তা পরিষ্কার করার প্রতীকী আচারও পালন করেন। রথে রশিতে টান দেওয়ার পাশাপাশি সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করতেও দেখা গেছে মুখ্যমন্ত্রীকে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা ও সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও সুসংগঠিত করতে শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের তরফে এ বছর রথযাত্রা কমিটি গুলিকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ একদিকে যেমন প্রশাসনিক কাজে তৎপরতা দেখাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী, পাশাপাশি রাজ্যের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির দিকেও সমান ভাবে নজর রেখেছেন। রথযাত্রার পুণ্যলগ্নে বারবার শুভশক্তির প্রতিষ্ঠা ও এই উৎসবের ভাবধারাকে সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার ফুটে উঠেছে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের কর্মকাণ্ডে। এক কথায়, মন জিতলেন মুখ্যমন্ত্রী।
















