গাড়ির ইঞ্জিনে বারবার সমস্যা, একাধিকবার সার্ভিসিংয়ের (Servicing) পরও মেলেনি স্থায়ী সমাধান। শেষ পর্যন্ত আইনের দ্বারস্থ হয়েই ন্যায় পেলেন এক গাড়ির মালিক। E20 পেট্রোল ব্যবহারের পর গাড়িতে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় ছত্তিশগঢ়ের রায়পুর জেলা কনজিউমার ডিসপিউটস রিড্রেসাল কমিশন (Raipur District Consumer Disputes Redressal Commission, Chhattisgarh) প্রস্তুতকারী সংস্থা ও ডিলারের পরিষেবায় ত্রুটি ছিল বলে রায় দিয়েছে। শুধু ক্ষতিপূরণই নয়, অভিযোগকারীর গাড়ির পরিবর্তে E20 সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন গাড়ি দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে কমিশন। দেশে E20 জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত বাড়তে থাকা পরিস্থিতিতে এই রায় ভবিষ্যতের আরও এই ধরনের মামলাগুলির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে।

এই মামলার শুনানিতে উঠে আসে, গাড়ির মালিক নিজের গাড়ির পারফরম্যান্স কমে যাওয়া, ইঞ্জিন বারবার মিসফায়ার করা এবং ধীরে ধীরে মাইলেজ কমে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যার সমাধানের আশায় বারবার কোম্পানির অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারের (Service Center) উপর নির্ভর করেছিলেন। কিন্তু প্রতিবার ঠিক করে দেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই একই ধরনের সমস্যা আবারও ফিরে আসছিল। দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি চলার পর শেষ পর্যন্ত তিনি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অন্যদিকে, প্রস্তুতকারী সংস্থা শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, তাদের গাড়ি E20 জ্বালানির জন্য উপযোগী এবং অভিযোগের সঙ্গে ওই জ্বালানির কোনও যোগ নেই।

কমিশন অবশ্য মামলার নথি ও পরিষেবার ধারাবাহিকতা বিচার করে ভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। তাদের মতে, যদি কোনও গাড়ি একই সমস্যার জন্য বারবার সার্ভিস সেন্টারে যেতে বাধ্য হয় এবং অনুমোদিত সার্ভিসিংয়ের পরও সমস্যা না মেটে, তাহলে সেই পরিষেবাকে সন্তোষজনক বলা যায় না। কমিশন আরও মনে করিয়ে দিয়েছে, বর্তমানে দেশের বহু পেট্রল পাম্পে E20 ই প্রধান জ্বালানি হওয়ায় সাধারণ গ্রাহকের হাতে বিকল্প জ্বালানি বেছে নেওয়ার সুযোগও সীমিত।

সেই কারণেই গাড়ির মালিকের অভিযোগ গ্রহণ করে কমিশন প্রস্তুতকারী সংস্থা ও ডিলারের বিরুদ্ধে একাধিক নির্দেশ জারি করেছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন E20 উপযোগী গাড়ি দিতে হবে, তা সম্ভব না হলে গাড়ির পুরো টাকা ফেরত দিতে হবে। পাশাপাশি দেরি হলে সুদ, মেরামতের খরচ, মানসিক ভোগান্তি এবং মামলার ব্যয়ের ক্ষতিপূরণও দিতে হবে। E20 জ্বালানি নিয়ে ভবিষ্যতে যদি একই ধরনের অভিযোগ ওঠে, তাহলে এই রায়কে গুরুত্বপূর্ণ আইনি দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরা হতে পারে।