স্বাস্থ্য পরিষেবায় (Healthcare Services) বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার (State Government)। সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো বাড়ানো, অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও পরিষেবার সংযোজন, দুর্গম এলাকায় চিকিৎসা পৌঁছে দিতে বিশেষ উদ্যোগ, রোগীদের জন্য নতুন সুবিধা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ডিজিটাল নজরদারি। এই সব মিলিয়ে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা বিধানসভায় ঘোষণা করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (Health Minister Sharadwat Mukhopadhyay)। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে স্বাস্থ্য খাতে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
রাজ্যের বড় সরকারি হাসপাতালগুলিতে এবার একসঙ্গে একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হচ্ছে। এসএসকেএম হাসপাতালে (SSKM Hospital) নতুন উডবার্ন ভবন (Woodburn Building), রোবোটিক সার্জারির (Robotic Surgery) ব্যবস্থা, দ্বিতীয় ক্যাথল্যাব এবং নতুন অপারেশন থিয়েটার তৈরি হবে। এসএসকেএম ও এনআরএসে বসানো হবে ১২৮-স্লাইস সিটি স্ক্যান (CT scan)। কলকাতা ও বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে (Kolkata and Bardwan Medical Colleges) নতুন ক্যাথল্যাব তৈরি হবে। পাশাপাশি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে রোগীদের জন্য নতুন পরিষেবা ভবন গড়ে তোলা হবে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে রাজ্যের পাঁচটি অঞ্চলে নতুন মেডিক্যাল হাব তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
শুধু হাসপাতালের পরিকাঠামো নয়, রোগীদের পরিষেবাও আরও সহজ করার উপর জোর দিচ্ছে রাজ্য। সরকারি হাসপাতাল থেকে রেফার হওয়া রোগীদের জন্য বেসরকারি হাসপাতালের মোট শয্যার ১০ শতাংশ বেড বিনামূল্যে সংরক্ষিত থাকবে। অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবায় (Ambulance Service) জিপিএস সমৃদ্ধ অ্যাপ-ক্যাব (GPS-enabled App-Cab) প্রযুক্তি চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল রুম থেকে ওয়েবকাস্টিংয়ের মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালগুলির পরিষেবার উপর সবসময় নজর রাখা হবে। পরে এই নজরদারির আওতায় বেসরকারি হাসপাতালগুলিকেও আনার ভাবনা রয়েছে।
প্রত্যন্ত এলাকার স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করতে সুন্দরবনের (Sundarbans) জন্য আলাদা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে ৬টি ওয়াটার অ্যাম্বুল্যান্স (Water Ambulance), ২টি ভাসমান মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট (Mobile Medical Unit), ২১টি নতুন প্রসব কেন্দ্র এবং ৪টি বিশেষ নবজাতক পরিচর্যা কেন্দ্র তৈরি করা হবে। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে বাড়ি বাড়ি চিকিৎসা পৌঁছে দিতে ২১০টি এবং শহরাঞ্চলে সুডার মাধ্যমে আরও ১০০টি আধুনিক মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট চালু করা হবে।
প্রবীণদের চিকিৎসার জন্য মহকুমা হাসপাতালগুলিতে মিউজিক থেরাপি (Music Therapy) এবং জেলায় জেলায় জেরিয়াট্রিক ক্লিনিক (Geriatric Clinic) চালুর কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ভেলোর ও মুম্বইয়ে চিকিৎসার জন্য যাওয়া রাজ্যের রোগীদের কম খরচে থাকার ব্যবস্থাও করবে রাজ্য। একই সঙ্গে রাজ্যের স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের আওতায় প্রতি পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা সুরক্ষা বজায় রাখার আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
















