কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) উপস্থিতিতে রবিবার কলকাতা জাতীয় গ্রন্থাগারে (National Library) 'মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ডস' (Museum of Words) বা শব্দলোকের প্রথম পর্যায়ের উদ্বোধন হল। বাংলা ভাষার মর্যাদা ও ব্যবহার বৃদ্ধি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) আগেই চিঠি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিন সে কথার উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, সোমবার বিধানসভা অধিবেশনে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত জানাবেন তিনি। তবে প্রধানমন্ত্রী বাংলায় এসে যে বিকাশের কথা বলেছিলেন বাংলা এখন সেই পথেই এগোচ্ছে। রাজ্যে পান্ডুলিপি সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Govt of west Bengal) এবং দেশের সংস্কৃতি মন্ত্রক একসঙ্গে কাজ করবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলার সংস্কৃতির ভূয়সী প্রশংসা শোনা যায় শাহের মুখে। তিনি বলেন, কোনও দেশের সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ভাষা ছাড়া সম্ভব নয়। পাশাপাশি মাতৃভাষাকে ভুলে না যাওয়ার বার্তাও দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

ন্যাশনাল লাইব্রেরীতে দেশের প্রথম শব্দ বিষয়ক জাদুঘরের উদ্বোধনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সঙ্গে নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে নটি গ্যালারি ঘুরে দেখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বীকৃত ২২টি ভাষা শব্দভাণ্ডার ধ্বনির বিবর্তন এবং ভাষার ইতিহাসকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। এই উদ্যোগের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রকের প্রশংসা করেন অমিত। তিনি বলেন মানুষ ভাষাকে নয় ভাষা মানুষকে তৈরি করেছে। ভাষা থেকে সংস্কৃতির উৎপত্তি। তাই শব্দ- ভাষা ছাড়া সংস্কৃতি অসম্পূর্ণ। একদিকে যেমন শুভেন্দু নেতৃত্বে সোনার বাংলা গড়ার কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাশাপাশি বাংলার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি প্রশংসা করতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন বিশ্বকবি থেকে শুরু করে সাহিত্য সম্রাট, ঋষি অরবিন্দর নামও। শাহ বলেন, বাংলা পাঁচ দশক এগিয়ে থেকে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছে। এই বাংলাতেই রবি ঠাকুর জন্মেছেন। ঋষি অরবিন্দের ব্যাপারে না পড়লে ভারতকে বোঝা যাবেনা। সেই বাংলা ফের সোনার বাংলায় পরিণত হয়েছে। ডবল ইঞ্জিন এই রাজ্যের উন্নয়ন ও বিকাশের দিকে নজর রাখছে কেন্দ্র।
এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতবর্ষে সংকীর্ণতার কোনও জায়গা নেই। বিজেপি সরকার কারোর বিচারধারা বা মতাদর্শের উপর কোনও প্রতিবন্ধকতা বা নিয়ন্ত্রণ করেনি বলেই দাবি করেন তিনি। শাহের কথায়, আজ দেশের সংস্কৃতির জন্য বড় একটা দিন। এই শব্দের জাদুঘর দেশের সংস্কৃতি ও ভাষার পুনরুদ্ধার করবে। নরেন্দ্র মোদি যে সংকল্প নিয়েছেন তা পূরণ হতে চলেছে। বাংলা তথা দেশের যুবসমাজকে ভাষা- সংস্কৃতি বোঝার পাশাপাশি লাইব্রেরির গুরুত্ব অনুভব করার বার্তাও দেন তিনি।
















