অবিরাম বৃষ্টির ধাক্কায় বড়সড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে জম্মু-কাশ্মীর (Jammu Kashmir)। পুঞ্চ (Punch), রজৌরিসহ (Rajouri) একাধিক জেলায় হড়পা বানে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে, নিখোঁজ রয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। নদীর জল বিপদসীমা ছাড়িয়ে জনবসতিতে ঢুকে পড়ায় বহু বাড়িঘর ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নিচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসের জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন।

রজৌরিতেই এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। প্রবল বৃষ্টির জেরে অল্প সময়ের মধ্যেই নদীগুলির জল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। নদীর জল উপচে আশপাশের বসতি এলাকায় ঢুকে পড়ায় বহু বাড়ি ও গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দ্রুত জল বাড়তে থাকায় বাসিন্দাদের একাংশ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হন। এই দুর্যোগের মধ্যেই জলের স্রোতে এক মহিলা তলিয়ে যান। পরে উদ্ধারকারী দল তাঁর দেহ উদ্ধার করে।

বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে কারণ জেলার একাধিক নদীতে জল বিপদসীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। দারখালি, খান্ডলি, সুখতো ও জমোলা এলাকার নদীগুলির জলস্তর লাগাতার বাড়ছে। দারখালি নদীর জল ইতিমধ্যেই আশপাশের আবাসিক এলাকায় ঢুকে পড়ায় বহু পরিবার চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে, পুঞ্চেও হড়পা বানের ধাক্কায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। সেখানেই ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে প্রশাসনের পাশাপাশি বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

 আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ২৩ জুলাই পর্যন্ত জম্মু-কাশ্মীরের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি চলতে পারে। সেই সতর্কবার্তার পর সব জেলা প্রশাসনকে আগাম প্রস্তুতি নিয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রজৌরিতে ১০৩ মিলিমিটার, উধমপুরে ১০১ মিলিমিটার, কাটরায় ৮৫ মিলিমিটার এবং পুঞ্চে ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এইরকম বৃষ্টি চলতে থাকলে নদীর জলস্তর আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।