বাংলায় শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে বারবার সরব হয়েছিল বিজেপি (BJP)। তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে একের পর এক রাজনৈতিক আক্রমণও শানিয়েছিল তারা। কিন্তু এবার বিজেপি-শাসিত বিহারেই ভুয়ো ডিগ্রি ও জাল শিক্ষাগত নথির সাহায্যে সরকারি স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি পাওয়ার অভিযোগ সামনে এল। ফলে তিন হাজারেরও বেশি শিক্ষককে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিহার সরকার। রাজ্য ভিজিল্যান্স ব্যুরোর (State Vigilance Bureau) তদন্তে সামনে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই এই কড়া পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ তিওয়ারি (Education Minister Mithilesh Tiwari)। তবে শুধু চাকরি বাতিল নয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত এবং এতদিনের বেতন সুদ সহ ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করবে বিহার সরকার।
২০০৬ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে হওয়া শিক্ষক নিয়োগকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়মের অভিযোগ উঠছিল। সেই অভিযোগের তদন্তে নেমে ভিজিল্যান্স ব্যুরো নিয়োগে জাল নথি ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছে বলে দাবি করেছে। তদন্তে উঠে এসেছে, অনেকেই ভুয়ো শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র দেখিয়ে সরকারি স্কুলে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ হয়েছিলেন। সেই তালিকা খতিয়ে দেখে ধাপে ধাপে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র চাকরি বাতিল করেই বিষয়টি শেষ করা হবে না। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও করা হয়েছে। বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হবে। এমনকি চাকরির সময় যে বেতন তাঁরা পেয়েছেন, তা সুদ সহ ফেরত আদায়ের প্রক্রিয়াও শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা দফতর।
তদন্তের আঁচ পৌঁছতেই কয়েকজন অভিযুক্ত শিক্ষক আগেভাগে পদত্যাগ (Resignation) করেছেন বলেও প্রশাসন সূত্রে খবর। তবে ইস্তফা দিলেই দায়মুক্তি মিলবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে বিহার সরকার। তাঁদের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে ভুয়ো নথিতে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ ঘিরে বিহারের রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
















