রাজ্যে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে একগুচ্ছ নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা করল রাজ্য সরকার (State Government)। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রকাশ্যে ময়লা ফেলা, থুতু ফেলা, প্রকাশ্যে প্রস্রাব করা কিংবা নিষিদ্ধ সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার করলে ২০০ টাকা জরিমানা করা হবে। একই সঙ্গে আগামী দু'মাসের মধ্যে রাজ্যের প্রায় ৫০ হাজার নির্মল বন্ধু ও সাফাইকর্মীর হাতে ‘স্বচ্ছ কবচ’ নামে বিশেষ সুরক্ষা কিট (Safety kit) তুলে দেওয়া হবে।
নগর উন্নয়ন ও পুর দফতরের (Urban Development and Municipal Affairs Department) উদ্যোগে আয়োজিত ‘স্বচ্ছ কবচ’ কর্মসূচির সূচনা অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Chief Minister Suvendu Adhikari) বলেন, একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাজ্য গড়ে তুলতে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Prime Minister Narendra Modi) ‘স্বচ্ছ ভারত’ অভিযানের ভাবনাকে সামনে রেখেই পশ্চিমবঙ্গে পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্বাস্থ্যকর নগরজীবনের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ রক্ষার ভারসাম্য বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই কলকাতা, শিলিগুড়ি, আসানসোল, দার্জিলিং, দিঘা সহ রাজ্যের বিভিন্ন শহরে পরিচ্ছন্ন রাস্তা, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও সবুজায়নের উপর জোর দেওয়া হবে। দূষণের কুফল সবচেয়ে বেশি ভোগ করতে হয় শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত মানুষদের বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে নগর উন্নয়ন ও পুর মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) জানান, ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’ অভিযানের মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই রাজ্যজুড়ে ২,৪০০ রও বেশি আবর্জনায় ভরা জায়গা পরিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি ২,৩০০টিরও বেশি বদ্ধ নর্দমা পরিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে। নির্মল বন্ধু, সাফাইকর্মী, পুরসভা ও পুরনিগমের কর্মী এবং জেলা প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই এই সাফল্য এসেছে বলে তিনি জানান। মন্ত্রী জানান, ‘স্বচ্ছ কবচ’ প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি সাফাইকর্মীকে রেইনকোট, রিফ্লেক্টিভ সেফটি জ্যাকেট, গ্লাভস, গামবুট ও টুপিসহ প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী দেওয়া হবে। পাশাপাশি সব সাফাইকর্মীর তথ্য নথিভুক্ত করা হবে এবং প্রতি তিন মাস অন্তর তাঁদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, জরিমানা কার্যকর করার পাশাপাশি ‘নো লিটারিং’ জনসচেতনতামূলক প্রচারও চালানো হবে। প্লাস্টিকের বিকল্প সহজলভ্য করতে বিভিন্ন বাজারে ব্যাগ ভেন্ডিং মেশিন (Vending machine) বসানো হবে, যেখানে কম টাকায় কাপড় বা পাটের পরিবেশবান্ধব ব্যাগ কেনা যাবে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক করতে বাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে উৎসেই ভেজা ও শুকনো বর্জ্য আলাদা করার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে সমস্ত পুরসভা ও পুরনিগম এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও বাজারে প্রতিদিন দুবার করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ চলবে। একই সঙ্গে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য খাবারের দোকান থেকেও দিনে দুবার আবর্জনা সংগ্রহ করা হবে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘মায়ের নামে একটি গাছ’ কর্মসূচির আওতায় চলতি বছরে রাজ্যে ৭ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। শুধু রোপণ নয়, আগামী দু'বছর ধরে সেই গাছগুলির পরিচর্যার ব্যবস্থাও করা হবে। আগামী ১৪ থেকে ২০ জুলাই পালিত অরণ্য সপ্তাহে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের বার্তাও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
















