চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় বড় আইনি স্বস্তি পেলেন রাজ্যের প্রাক্তন সেচমন্ত্রী মানস ভূঁইয়া (Former Irrigation Minister Manas Bhunia)। সোমবার কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) তাঁকে আপাতত গ্রেফতার (Arrest) না করার নির্দেশ দিয়েছে। এমনকি এই মামলার বাকি অভিযুক্তদেরও গ্রেফতার করা যাবে না। তবে সেই সঙ্গে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা, পাসপোর্ট (Passport) জমা রাখা এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে যেতে না পারাসহ একাধিক শর্তও বেঁধে দিয়েছে আদালত। ফলে গ্রেফতারি এড়ালেও কড়া আইনি নজরদারির মধ্যেই থাকতে হবে প্রাক্তন মন্ত্রীকে।

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য (Justice Saugata Bhattacharyya) স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেন, তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনওভাবেই বাধা সৃষ্টি করা যাবে না। তদন্তকারী সংস্থা প্রয়োজন মনে করলে যে কোনও সময় ডেকে পাঠাতে পারবে এবং সেই ডাকে সাড়া দেওয়া বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি বিদেশ সফরের (Foreign Tour) সম্ভাবনা এড়াতে তাঁর পাসপোর্টও তদন্তকারীদের কাছে জমা রাখতে হবে। এছাড়া আদালতের অনুমতি ছাড়া সবং থানার আওতাধীন এলাকা ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। 

অভিযোগের সূত্রপাত সবং এলাকার এক বাসিন্দার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। তাঁর দাবি, তেমাথানি ইরিগেশন বাংলোয় কেয়ারটেকারের (Caretaker at the Temathani Irrigation Bungalow) পদে তাঁর স্ত্রীর চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৫ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়। পরে চাকরিতে যোগ দিলেও সেই চাকরি কিছুদিনের মধ্যেই চলে যায় এমনটাই অভিযোগ ওই বাসিন্দার। 

এই অভিযোগে অভিযোগকারী পরিবার পুলিশের (Police) দ্বারস্থ হয়। অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়। সেই তদন্ত চলাকালীন প্রাক্তন মন্ত্রীকে গ্রেফতার করা যাবে না বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট। তবে তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে এবং আদালতের দেওয়া প্রতিটি শর্ত কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে বলেও নির্দেশে স্পষ্ট করা হয়েছে।