বহু বছর ধরে নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস, বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়ম-সহ একাধিক বিষয়ের প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টির  (Cockroach Janata Party) ‘চলো সংসদ’ অভিযান শুরু হয়েছে সোমবার। এর মধ্যে যন্তর মন্তরে (Jantar Mantar) ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। তবে জানা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার (Central Government) সিজেপির সঙ্গে আলোচনায় অবশেষে রাজি হয়েছে। আশুতোষ রাঙ্কা (Ashutosh Ranka) ও সৌরভ দাস (Sourav Das) কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার (Union Minister JP Nadda) সঙ্গে বৈঠক করবেন। সিজেপির দাবি, এদিন সকালে সরকার আলোচনার জন্য যোগাযোগ করেছিল তাঁদের সঙ্গে। তবে তাঁদের মূল দাবি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Union Education Minister Dharmendra Pradhan) পদত্যাগ, সেই বিষয়েই আলোচনা করা হবে। অন্যদিকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে (Delhi's Safdarjung Hospital) ভর্তি থাকলেও আন্দোলনে উপস্থিত থাকতে চাইছেন সোনম ওয়াংচুক। সোমবার হাসপাতাল থেকেই তিনি মেডিক্যাল সুপারিন্টেনডেন্ট এবং সরকারের উদ্দেশে চিঠি লিখে জানান, তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল তাই তাঁকে সাময়িকভাবে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক।

যন্তর মন্তরে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে ঘিরে হাজার হাজার ছাত্র-যুবক একত্রিত হয়েছেন। রবিবার রাত থেকেই ভিড় বাড়তে থাকে। সকালে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ঘটনাস্থলে মোতায়েন ছিল র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স। ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করা হয়েছে এমন ছবি প্রকাশ্যে থাকলেও দিল্লি পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, বিক্ষোভকারীদের সংসদ পর্যন্ত মিছিল করতে দেওয়া যাবেনা। ব্যারিকেড অতিক্রম করার অনুমতি কাউকে দেওয়া হবে না। দিল্লি পুলিশ আগেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল সংসদ অভিমুখে মিছিলের জন্য কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। প্রায় ১০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন রয়েছে সংসদ, যন্তর মন্তর এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর এলাকায়। বন্ধ করা হয়েছে দিল্লি মেট্রোর পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন। জানা যাচ্ছে, পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত ট্রেন বন্ধ থাকছে।

এদিকে সংসদ ভবনের গেটের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে আন্দোলনকারীরা। সূত্রের খবর, সংসদ ভবন চত্বর জলকামান, ত্রি-স্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। সংসদে ভবনের ভিতরে প্রধানমন্ত্রী, ক্যাবিনেট মন্ত্রী, বিরোধী দলনেতা সহ অন্যান্য সমস্ত দলের সাংসদরা উপস্থিত রয়েছেন। সংসদ ভবনের এই লোহার গেটের ডানদিকে রাইসিনা হিলস (Raisina Hills) অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি ভবন। কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যান্য মন্ত্রকের দফতরও এখানেই। সেখানে পৌঁছনোর আগেই বিক্ষোভকারীদের রুখতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় দিল্লি পুলিশ। ব্যারিকেডও করে দেওয়া হয়। ব্যারিকেডে বাধা পেয়ে সেখানেই অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেছেন বিক্ষোভকারীরা।