গুজরাটে ধৃত জইশ জঙ্গির সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে বলে দাবি করেছে গুজরাট সন্ত্রাসদমন শাখা (Gujarat Anti-Terrorist Squad)। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতদের মধ্যে অন্তত দুজন জম্মু-কাশ্মীরে গিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। সেখানে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র চালানো, বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহার করে হামলা এবং বিস্ফোরণ ঘটানোর মতো একাধিক নাশকতার কৌশল শেখানো হয়েছিল। প্রশিক্ষণ শেষে দেশে বড় ধরনের হামলার কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এটিএসের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, গোটা চক্রটি 'আবদুল্লা' (Abdullah) নামে এক হ্যান্ডলারের নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছিল। ধৃতদের দাবি অনুযায়ী, প্রশিক্ষণের সময় প্রায় ৪০ ধরনের নাশকতার কৌশল শেখানো হয়েছিল। শুধু তাত্ত্বিক শিক্ষা নয়, বিস্ফোরক ব্যবহার ও হামলার কৌশলের বাস্তব অনুশীলনও করানো হয়। তদন্তকারীদের মতে, প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবেই জম্মু-কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) একাধিক জায়গায় পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল। সেই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের খোঁজে তদন্ত চলছে।

তল্লাশিতে ধৃতদের কাছ থেকে বোমা তৈরির বিভিন্ন উপাদান, রাসায়নিক পদার্থ এবং নাশকতার কাজে ব্যবহৃত নানা সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, হ্যান্ডলার আবদুল্লা তিন লক্ষ টাকা পাঠিয়েছিল। সেই অর্থে একটি পুরনো গাড়ি এবং একটি মোটরসাইকেল কেনা হয়েছিল বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের সন্দেহ, ওই গাড়ি ব্যবহার করেই বড় ধরনের বিস্ফোরণের পরিকল্পনা ছিল। পাশাপাশি, আমেদাবাদের (Ahmedabad) একটি হোটেল থেকে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত ৪৩টি বই এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিও উদ্ধার হয়েছে।

প্রায় সপ্তাহখানেক আগে গুজরাত ও মধ্যপ্রদেশে অভিযান চালিয়ে জইশের স্লিপার সেলের (Sleeper cell) আট সদস্যকে গ্রেফতার করেছিল এটিএস। তদন্তকারীদের দাবি, ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে মগজধোলাই, জঙ্গি নিয়োগ এবং হামলার প্রশিক্ষণের কাজ চলছিল। সেই অভিযানের পর ফের গুজরাত থেকে আরও পাঁচ সন্দেহভাজন জইশ জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকেই তদন্তে একের পর এক নতুন তথ্য উঠে আসছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার।