রেলের জমি ও স্টেশন চত্বর থেকে হকার উচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে পুনর্বাসন নিয়ে সরব হলেন আবেদনকারীদের আইনজীবী। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়। হকারদের আইনজীবী শামিম আহমেদ দাবি করেন, রেলের উন্নয়নের স্বার্থে উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। তবে উচ্ছেদের আগে এই গরীব-খেটে খাওয়া মানুষদের সম্মানজনকভাবে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্র ও রেলের সাংবিধানিক দায়িত্ব। উভয়পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে এদিন আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করেছে।

মঙ্গলবার শুনানির শুরুতেই একাধিক মামলা দায়ের হওয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি পার্থ সারথি সেন। তিনি জানান, একই বিষয়ে একাধিক মামলা দায়ের হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং একই যুক্তি বারবার শুনতে দেওয়া যাবে না। সেই সঙ্গে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বিচারপতি বলেন, কোনও কারণ ছাড়া প্রতিবার শুনানি পিছোনোর আবেদন করা হলে সেই পক্ষকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হবে।

হকারদের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী শামিম আহমেদ সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ (আইনের চোখে সমতা) এবং নির্দেশমূলক নীতির প্রসঙ্গটি আদালতের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বহু বছর ধরে প্রশাসন ও রেলের নজরদারিতেই হকাররা সেখানে ব্যবসা করে জীবিকা চালাচ্ছে। এখন হঠাৎ করে তাঁদের তুলে দিলে রুটিরুজি বন্ধ হয়ে যাবে। 'আশ্রয়ের অধিকার' মৌলিক অধিকারের অংশ হওয়ায়, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া এই মানুষদের পুনর্বাসন দেওয়া রাষ্ট্রের অবশ্য পালনীয় কর্তব্য। পাল্টা জবাবে বিচারপতি সেন প্রশ্ন তোলেন, "কোন আইনের ভিত্তিতে রেলের প্ল্যাটফর্ম বা জমি দখল করে থাকার অধিকার পাওয়া যায়? আদালতকে আগে সেই আইনি ভিত্তি দেখাতে হবে।" জবাবে আইনজীবী যুক্তি দেন, বিষয়টি শুধুমাত্র আইনি অধিকারের নয়, এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের মানবিক অধিকার এবং পুনর্বাসনের রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার প্রশ্নটি জড়িত। উভয়পক্ষের সওয়াল শোনার পর এদিন আদালত অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়ে মামলাটি আগামী ১৬, ২১ এবং ২২ জুলাই পুনরায় শুনানির নির্দেশ দিয়েছে।