বাংলায় নতুন সরকারের দুমাস পূর্ণ হতে না হতেই শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ৩৪ বছরের বাম আমলের শিল্পের ইতিহাসের 'কালো অধ্যায়' কাটিয়ে এবার রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিনের ম্যাজিক শুরু। বাঁকুড়ার মেজিয়ায় শ্যাম স্টিল প্লান্টের সম্প্রসারণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে গিয়ে রাজ্যে বিপুল কর্মসংস্থানের কথা ঘোষণা করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। জানিয়ে দিলেন, বাংলায় ফিরছেন শিল্পপতিরা। এবার ভোটের মতো শিল্পের ক্ষেত্রেও কাউন্টিং শুরু হবে পশ্চিমবঙ্গে। এককথায় এবার 'বঙ্গে বসতে লক্ষ্মী'। 

রাজ্যে বিজেপি (BJP) ক্ষমতায় আসার পর শিল্পের উন্নয়নে জোর দেওয়ার কথা শোনা গিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর মুখে। সেটা যে শুধু কথার কথা ছিল না তা ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। হুগলির ডানকুনিতে লাক্স কোজির সম্প্রসারণের পর এবার বাঁকুড়ার মেজিয়ায় শ্যাম স্টিলের নতুন ইউনিটের সম্প্রসারণ -  বোঝাই যাচ্ছে রাজ্যে ফিরছেন শিল্পপতিরা। এই কারখানা চালু হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় দশ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। ১৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলায় এবার ব্যবসা করতে গেলে শিল্পপতি - বিনিয়োগকারীদের আর চিন্তা করতে হবে না। এবার থেকে সরকার সব ব্যবস্থা করে দেবে। শিল্পায়নের নামে কেউ ভিটেহারা হবেন না বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। 

একদিকে গুন্ডা দমন আইন চালু করে অপরাধ প্রবণতা কমাতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী, পাশাপাশি আইনের শাসনের মাধ্যমে যাতে সুষ্ঠুভাবে শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগ ও উন্নয়ন হয় সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রেখেছেন। স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন, বিজেপি সরকারের আমলে বাংলায় কাটমানি- সিন্ডিকেটরাজ এখন অতীত, বাংলায় ব্যবসা করতে গেলে লাইসেন্স পাবার পর আর কোনও সমস্যায় পড়তে হবে না বিনিয়োগকারীদের। পাশাপাশি শিল্পপতিদের উদ্দেশ্য মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, কত বিনিয়োগ হল তার উপরে বার্ষিক ইনটেনসিভ নির্ধারিত হবে না। বরং রাজ্যে কত কর্মসংস্থান হল সেটাকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে। 

বাঁকুড়ার শিলান্যাস অনুষ্ঠান থেকে বিনিয়োগ নিয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, গৌতম আদানির সঙ্গে কথা হয়েছে। দাদনপাত্র বাড়ি এলাকার প্রায় ১৭০০ একর জমিতে বৃহৎ বন্দর প্রকল্পে আদানি গোষ্ঠী বিনিয়োগ করবে। সঞ্জীব গোয়েঙ্কার সঙ্গে বৈঠকের পর রাজ্যে একটি ব্যাটারি তৈরির কারখানা-সহ দুটি বড় প্রকল্পের ব্যাপারে সবুজ সংকেত পাওয়া গেছে। তাজপুর সংলগ্ন এলাকায় আন্তর্জাতিক মানে ২০০০ শয্যার হাসপাতাল গড়ে তোলার পাশাপাশি দুর্গাপুজোর আগে হরিণঘাটায় বড় বাণিজ্যিক সংস্থার নতুন প্রকল্পের উদ্বোধনের কথাও জানিয়েছেন শুভেন্দু। অর্থাৎ বাংলায় যে এখন শুধুই উন্নয়নের জোয়ার তা মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট।