মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) গোবিন্দপুর লেভেল ক্রসিংয়ে (Gobindapur Level Crossing) পুলকারে ট্রেনের ধাক্কায় পাঁচ জনের মৃত্যুর ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে গ্রেফতার (Arrest) গেটম্যান অনুপ কর্মকার (Gateman Anup Karmakar) এবার মুখ খুললেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি দাবি করেছেন, দুর্ঘটনার জন্য তাঁকে এককভাবে দায়ী করা ঠিক নয়। তাঁর অভিযোগ, প্রতিদিনের নিয়ম অনুযায়ী স্টেশন মাস্টার ট্রেন ছাড়ার খবর জানালেও দুর্ঘটনার দিন ডাউন ট্রেন ছাড়ার বার্তা দেওয়া হয়নি। সেই কারণেই গেট খোলা ছিল এবং মুহূর্তের মধ্যেই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

হাসপাতালের বেড থেকেই অনুপ কর্মকার জানান, প্রতিদিনের মতো সেদিনও কর্ণসুবর্ণ স্টেশন (Karnasuvarna Station) থেকে আপ ও ডাউন ট্রেনের নম্বর তাঁর কাছে পৌঁছেছিল। তবে তাঁর দাবি, "প্রতিদিন আপ ও ডাউন ট্রেন ছাড়ার পর স্টেশন মাস্টার আমাকে জানিয়ে দেন গেট বন্ধ করতে। কিন্তু সেদিন ডাউন ট্রেন ছাড়ার খবর আমাকে দেওয়া হয়নি। তাই ভেবেছিলাম এখনও কয়েক মিনিট সময় আছে। সেই কারণেই গেট খোলা ছিল।" তিনি আরও বলেন, "ডাউন ট্রেনটি আমার পিছন দিক থেকে আসে। তাই সেটি দেখতে পাইনি। ট্রেনের নম্বর পাঠানো হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার বার্তা আর আসেনি।" যদিও অনুপের এই দাবির বিষয়ে এখনও পর্যন্ত স্টেশন মাস্টার বা রেল কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

এদিকে, ডিউটির সময় অনুপ কর্মকার মদ্যপ ছিলেন বলে যে অভিযোগ উঠেছিল, তা খারিজ করেছে পূর্ব রেল। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি (Shivram Majhi, Chief Public Relations Officer of Eastern Railway) জানিয়েছেন, পরীক্ষায় গেটম্যানের শরীরে মদের উপস্থিতি মেলেনি। একইসঙ্গে তিনি জানান, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি ওই এলাকার সমস্ত নন-ইন্টারলক লেভেল ক্রসিংয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে সাত দিনের বিশেষ পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে সেই রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা।

দুর্ঘটনায় আহত তিন পড়ুয়া ও পুলকারের চালক এখনও মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। অন্যদিকে, অসুস্থতার কারণে শনিবার গেটম্যান অনুপ কর্মকারকে আদালতে পেশ করা যায়নি। ঘটনাস্থলে তদন্ত চালিয়েছে রেল সুরক্ষা বাহিনী। পাশাপাশি ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা রুখতে রেলগেট সংলগ্ন খোলা অংশ ঘিরে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।