শহরের বুকে আরও একটা আরজি কর-কাণ্ডের ছায়া। এ ঘটনা আরজি কর-কাণ্ডের থেকেও নৃশংস, নির্মম, মর্মান্তিক। কিন্তু কেউ ইনসাফের দাবিতে সোচ্চার হল না। রাত জাগল না, প্রতিবাদ করল না। দু’বছরের ফুটফুটে শিশুকে ধর্ষণ (child rape) করে খুনের (rape and murder) পরও পার পেয়ে গেল অপরাধী। যে পুলিশ ন্যায়বিচার দেবে, সেই পুলিশই গোটা ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে দিনের পর দিন। তাহলে আরজি কর-কাণ্ডে রাত জাগা পার্টির সদস্যরা এখন কেন নিশ্চুপ? তাঁদের সব আন্দোলন কি শেষ!

রাজ্যে প্রথম দফার বিধানসভা ভোটের দিন ২৩ এপ্রিল ঘটেছিল নির্মম ও মর্মান্তিক ঘটনা। ট্যাংরা থানা থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে নির্মীয়মাণ বহুতলের সিঁড়িতে বালির বস্তা থেকে উদ্ধার হয়েছিল দু’বছরের নাবালিকার নিথর দেহ। ট্যাংরা থানার পুলিশ দেহ উদ্ধার করেছিল কিন্তু কোনও এসআইআর করা হয়নি। ঘটনার ৪১ দিন পর এফআইআর দায়ের করতে বাধ্য হল ট্যাংরা থানার (Tangra police station) পুলিশ! আর জি করে অভয়া কাণ্ডের পর দেরিতে এফআইআর (FIR) দায়ের করায় সুপ্রিম কোর্টে ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছিল কলকাতা পুলিশকে (Kolkata Police)। তারপরও ট্যাংরায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল। তবু রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কারও মুখে রা নেই।

আরও পড়ুন : ভোট মিটতেই হেঁশেলে কোপ! উজ্জ্বলার ভর্তুকি ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তে ফুঁসছেন মহিলারা

আরজি কর-কাণ্ডের পর কলকাতার বুকে এত বড় একটি অপরাধ সংঘটিত হল, ট্যাংরা থানা এফআইআর দায়ের করেনি। শুধুমাত্র অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে ৪০ দিন ফেলে রেখেছিলেন তাঁরা। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এখন প্রশ্ন, কেন পুলিশ এমন জঘন্য অপরাধের পরও শুধুমাত্র অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে ফেলে রাখল? ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে আসার পর ঘটনার ৪১ দিন পর গত ৩ জুন অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীর বিরুদ্ধে পকসো আইনের ৬ ধারা, ১০৩ (১) খুন ও ২৩৮ ধারায় তথ্যপ্রমাণ লোপাটের মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে ট্যাংরা থানা। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

–

–

–

–
–
–
