আদানিকে চোখ রাঙাবে, কার সাধ্যি! সে শত্রু হোক বা বন্ধু… আদানির (Goutom Adani) দিকে চোখ তুলে তাকালে, তাঁকে মূল্য চোকাতে হবে। হালে বেদান্ত গ্রুপের সঙ্গে ঠিক সেই জিনিসটাই ঘটল। যতই মোদির (Narendra Modi) প্রশংসায় পঞ্চমুখ হও না কেন, আদানিকে পাঙ্গা নিলে রক্ষা নেই। কারণ আদানি হলেন মোদির মালিক। আদানি বনাম বেদান্ত মামলায় বিষোদ্গার কংগ্রেসের।

সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কংগ্রেসের তরফে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের অন্যতম বৃহৎ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠান জয়প্রকাশ অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড অধিগ্রহণের জন্য গৌতম আদানির আদানি গ্রুপ এবং অনিল আগরওয়ালের বেদান্ত গ্রুপের মধ্যে তীব্র আইনি ও ব্যবসায়িক কিসসা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে একহাত নেয়। আদানি গ্রুপের ১,৪৫,৪৩ কোটি টাকার প্রস্তাব দিয়ে জয়প্রকাশ অ্যাসোসিয়েটের মূল সম্পদ অধিগ্রহণের লড়াইয়ে জয়ী হওয়াকে অনৈতিক বলে তীব্র কটাক্ষ করে কংগ্রেস। কংগ্রেস মুখপাত্রের কথায়, আদানি বনাম বেদান্ত বিরোধের মূল কারণ বিডের গঠন বনাম পরিমাণ। বেদান্ত গ্রুপ কাগজে-কলমে অধিক অর্থের বিড দিলেও, ঋণদাতাদের কমিটি আদানির রেজোলিউশন প্ল্যান বেছে নেয়। কারণ আদানি গ্রুপ বেশি তাৎক্ষণিক নগদ অর্থ প্রদান ও দ্রুত অর্থ পরিশোধের নিশ্চয়তা দিয়েছিল বলে মনে করে কর্তৃপক্ষ। তাদের ব্যাখ্যায় ঋণদাতাদের কাছে ঝুঁকিমুক্ত ছিল আদানি গ্রুপের প্রস্তাব। এই অনুমোদনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে বেদান্ত গ্রুপ ন্যাশনাল কোম্পানি ল অ্যাপলিয়েট ট্রাইব্যুনাল বা এনসিএলএটি-র দ্বারস্থ হয়। আরও পড়ুন: মাটি চুরির অভিযোগ! অভিষেকের বিরুদ্ধে ডায়মন্ড হারবার থানায় FIR

ট্রাইব্যুনাল ঋণদাতাদের বাণিজ্যিক জ্ঞানকে সমর্থন করে বেদান্তের আবেদন খারিজ করে দেয় এবং আদানির জয় নিশ্চিত করে। এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের অবস্থানও ট্রাইব্যুনালের পক্ষে ছিল। অর্থাৎ সর্বোচ্চ আদালতও বেদান্তের সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে দেয়। যার ফলে আদানির জেপি গ্রুপ অধিগ্রহণে স্থগিতাদেশ জারি করা সম্ভব হয়নি বেদান্তের পক্ষে। সম্পদের দখল এই অধিগ্রহণের ফলে আদানি গ্রুপের হাতেই চলে যায়। ফলে ভারতের একমাত্র ফর্মুলা ওয়ান রেসিং ট্র্যাক-সহ বেশ কিছু সিমেন্ট প্ল্যান্ট, বিদ্যুৎ সম্পদ এবং বিপুল রিয়েল এস্টেট সম্পদের মালিকানা লাভ করে আদানি গ্রুপ। কংগ্রেসের কথায়, এই একপক্ষীয় জয় সম্ভব হয়েছে নরেন্দ্র মোদির হস্তক্ষেপে। বেদান্ত গ্রুপ যতই নরেন্দ্র মোদির প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকুক না, লড়াই যখন আদানির বিরুদ্ধে তখন তার মূল্য চোকাতেই হবে। কারণ বেদান্ত বন্ধু হতে পারে, আদানি মোদির মালিক।

–

–

–

–

–
–
–
