দলের টাকা নিয়ে ভোটে জিতবেন, আর জেতার পর সেই দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়েই প্রশ্ন তুলবেন! শনিবার তৃণমূলের ‘বহিষ্কৃত’ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Ritabrata Banerjee) চাঁছাছোলা ভাষায় ধুয়ে দিলেন তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। ঋতব্রতর দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক বলেন, তৃণমূলের টাকা যদি এতই খারাপ তাহলে অবিলম্বে সেই টাকা ফেরত দিন ঋতব্রতরা।

তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে সম্প্রতি প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূলের ‘বহিষ্কৃত’ বিধায়ক ও তাঁর অনুগামীরা। সেই প্রসঙ্গ টেনেই এদিন তীক্ষ্ণ সুরে প্রশ্ন তোলেন কুণাল। বলেন, “তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে যদি প্রশ্নই থাকে, তাহলে যাঁরা অভিযোগ তুলছেন, অর্থাৎ চাটন-ঋত বা তাঁর অনুগামী বিধায়করা, তাঁদের কাছে আমাদের একটা সোজাসুজি প্রশ্ন আছে- তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট যদি খারাপই হয়ে থাকে, তাহলে নির্বাচনের আগে টিএমসি-র তরফ থেকে এই চাটন ঋতদের অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার হয়েছিল কি হয়নি?” আরও পড়ুন: নিট পরীক্ষা নিয়ে চরম হতাশায় ৩৭ দিনে আত্মঘাতী ১২ পরীক্ষার্থী

কুণাল আরও যোগ করেন, এই বিধায়করা ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনে ঋতব্রতরা খরচের যে হিসাব জমা দিয়েছেন, তাতে পরিষ্কার বলা আছে যে তাঁরা তৃণমূলের দেওয়া টাকাই নির্বাচনে খরচ করেছেন। তৃণমূল বিধায়কের তোপ, “ভোটে জিততে দলের টাকা ব্যবহার করলেন, আর জিতে গিয়ে এখন প্রশ্ন তুলছেন! এ কেমন দ্বিচারিতা? যদি টাকা নিয়ে কোনও বিতর্ক থেকেই থাকে, তবে নিলেন কেন? অবিলম্বে সেই টাকা ফেরত দিন। পার্টির অ্যাকাউন্ট থেকে জেতার জন্য কত টাকা গিয়েছিল, সেটা বলুন এবং ফেরত দিন!”

এদিন পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ডাক পেলেও কুণাল ঘোষ কেন যাননি, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট জানান, অন্য কোনও দিনকে তাঁরা পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে মানেন না। তাঁর কথায়, “আমরা দলমত নির্বিশেষে পয়লা বৈশাখকেই পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে পালন করি। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই নিয়ে বৈঠক করেছিলেন। সেখানে বড় বড় রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদরাও এই দিনটাকেই স্বীকৃতি দিয়েছেন। ফলে আমি আলাদা করে অন্য কোনও দিন কেন পালন করতে যাব?” রাজনৈতিক মহলের মতে, দলেরই বিধায়কের বিরুদ্ধে কুণাল ঘোষের এই তীব্র আক্রমণ আগামী দিনে তৃণমূলের অন্দরে সমীকরণ কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।

–

–

–

–
–
–
